
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ২০১৮ সালের ভয়াবহ ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারকে ২.৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু জেলা আদালত। এই রায় নেপালের বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাঠমান্ডু পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাঠমান্ডু জেলা আদালতের বিচারক দিবাকর ভট্ট সম্প্রতি এই রায় প্রদান করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বিমা কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে অতিরিক্ত ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারকে।
তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স শনিবার (২৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এখনও এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আদালতের কপি বা নির্দেশনা হাতে পায়নি। তারা বলেছে, রায়ের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আইন বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, যদি আদালত সত্যিই এমন কোনো রায় দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি যথাযথ আইনি বিশ্লেষণের পর গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হবে। এছাড়া, আদালতের নির্ভরযোগ্য অনুলিপি ছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের ৭৬ আসনের উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় ভুল পথে গেলে বিমানটি রানওয়ের বাইরে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এতে ৫১ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ২২ জন নেপালি, ২৮ জন বাংলাদেশি ও একজন চীনা নাগরিক ছিলেন।
এই দুর্ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল এবং বাংলাদেশের পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়েছিল। তবে দীর্ঘ সাত বছর পর আদালতের রায়ে নিহতদের পরিবার কিছুটা হলেও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে।



