
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নিঝুমদ্বীপে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকেই দ্বীপজুড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে। সেইসঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট উঁচু জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায়।
এর ফলে নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানে বসবাসকারী হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রয়েছে চরম হুমকির মুখে। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও প্রধান সড়কসহ পুরো দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের, পুকুর ও দিঘি। অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, “জোয়ারের পানি ঢুকে দ্বীপের সবকিছু তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ। ঘরে পানি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ তো বিপদে আছেই, বনের হরিণগুলোও বিপাকে পড়েছে।”
প্রতিবছর এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা আফ্রিদি হাসান। তিনি বলেন, “আমরা আর ত্রাণ চাই না, চাই স্থায়ী বাঁধ ও নিরাপদ জীবন। এটি আমাদের অধিকার।”
অপরদিকে, হাতিয়া-নোয়াখালী ও হাতিয়া-চট্টগ্রাম নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বলেন, “নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফের চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
পর্যটন মৌসুমে হাজারো পর্যটকের ভিড় জমে নিঝুমদ্বীপে। তবে এমন দুর্যোগে স্থানীয়রা যেমন বিপদে, তেমনি পর্যটন খাতেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নিঝুমদ্বীপ এখন যেন বেঁচে থাকার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
পর্যটকদের প্রতি সতর্কতা:
পর্যটকদের আগামী কিছুদিন নিঝুমদ্বীপ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি পরিবেশবাদীরা এই দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।



