
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশ ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তিন সাংবাদিকসহ মোট ১৩ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে (বিসিএফসিসি) শুরু হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন মেলা ১৩তম বিমান বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী মেলা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পকে নতুন গতি দিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে আয়োজকরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন খাতের নীতিনির্ধারক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ট্যুরিজম সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সাংবাদিকদের সম্মাননা
সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন কালের কণ্ঠের চিফ বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমী, এশিয়ান টিভির চিফ নিউজ এডিটর ও এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব, এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ও এটিজেএফবি-এর যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল্লাহ সুমন।
এছাড়া পর্যটন শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুভাশীষ ভৌমিক পেয়েছেন প্রেস্টিজিয়াস অ্যাওয়ার্ড।
ভ্লগার ও প্রতিযোগিতার পুরস্কারপ্রাপ্তরা
ডিজিটাল মাধ্যমে ভ্রমণ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ায় বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন কয়েকজন জনপ্রিয় ভ্লগার।
- স্টোরিটেলিং ট্রাভেল ভ্লগার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন আর কে সোহান।
- উইমেন ট্রাভেল ভ্লগার ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন জান্নাত দ্য লুনাটিক ট্রাভেলার।
- কাপল ও ফ্যামিলি ট্রাভেল ভ্লগার হিসেবে জয়ী হয়েছেন পেটুক কাপল।
- আর রাইজিং ট্রাভেল ভ্লগার বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাস্ট এ মিনিট।
ফটো প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন যথাক্রমে হৃদয়, বিপুল আহমেদ ও তন্ময় দাস।
ভিডিও প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন শাহরিয়ার হোসেন শিজু, আর গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় সেরা হয়েছেন সাজিব মাহমুদ।
মেলায় অংশ নিচ্ছে ১২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান
এবারের বিটিটিএফ মেলায় দেশি-বিদেশি ১২০টিরও বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান প্রায় ২২০টি স্টল এবং ২০টি প্যাভিলিয়নে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ট্যুর অপারেটর, হোটেল-রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, ব্যাংক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান তাদের জাতীয় পর্যটন সংস্থা ও ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে।
এছাড়া মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, তুরস্ক ও স্বাগতিক বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্টরাও মেলায় অংশ নিয়েছে।
বিশেষ ছাড় ও আয়োজন
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো ভিজিটরদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন বিশেষ মূল্যছাড়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশি ও বিদেশি গন্তব্যে এয়ার টিকিট, তারকা হোটেলের রুম বুকিং, এবং বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিচ্ছে।
এ ছাড়াও মেলার সাইড ইভেন্ট হিসেবে থাকছে বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) সেশন, সেমিনার, অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান ও কান্ট্রি প্রেজেন্টেশন। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।
দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত আয়োজন
মেলায় প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ছাত্র-ছাত্রী, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
টোয়াবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মেলার মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশমান পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে এই ধরনের আয়োজন শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, বরং দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




One Comment
https://shorturl.fm/Ceqfe