দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঐতিহাসিক ফ্লাইট উদ্বোধন

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৪১ এই রুটে যাত্রা করে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙেছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩৪১ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের এই বিমানে ১৪৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী এবং একটি শিশুসহ মোট ১৫০ জনের কাছাকাছি যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইটটি প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩ মিনিটে অবতরণ করে। করাচিতে বিমানটিকে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দেওয়া হয়, যা এই পুনরুদ্ধারের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।

এই রুটটি সর্বশেষ ২০১২ সালে চালু ছিল এবং দীর্ঘ ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর এটি পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে সরাসরি সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে যাত্রীদের গাল্ফ দেশগুলোর (যেমন দুবাই, দোহা) ট্রানজিটের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হতো, যা সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিত। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রীরা এখন আরও সুবিধাজনক, সময়সাশ্রয়ী এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের দাম সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়েছে, যা পূর্বের তুলনায় ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা কম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এয়ার এস কে বশির উদ্দিন (শেখ বশিরউদ্দীন) বলেন, এই রুট চালু হওয়া শুধু বিমান যোগাযোগ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ, পর্যটন প্রসার এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. শফিক রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার (কিছু সূত্রে সৈয়দ আহমেদ মারুফ উল্লেখ থাকলেও সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে ইমরান হায়দার)। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সিন্ধু গভর্নর কামরান টেসোরি বিমান অবতরণের পর যাত্রী ও ক্রুকে স্বাগত জানান এবং বলেন, এই সহযোগিতা বিমান চলাচলের বাইরেও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রসারিত হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, শীতকালীন সূচি অনুসারে এই রুটে সপ্তাহে দু’দিন—প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ফ্লাইট চলবে। ঢাকা থেকে রাত ৮টা ১৬ মিনিটে ছেড়ে করাচিতে রাত ১১টা পৌঁছাবে। ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩৪২ করাচি থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে পৌঁছাবে। প্রাথমিকভাবে মার্চ ৩০ তারিখ পর্যন্ত টেস্টিং পিরিয়ড হিসেবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার পর দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিক্ষা বিনিময়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং পর্যটকরা এখন সহজেই সরাসরি ভ্রমণ করতে পারবেন। এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতারও প্রতিফলন, যা সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতি লাভ করেছে।

বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, উদ্বোধনী ফ্লাইটটি প্রায় পূর্ণ ছিল এবং পরবর্তী ফ্লাইটগুলোতেও বুকিং ভালো। এই সফল উদ্বোধন দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও ফ্লাইট বৃদ্ধি ও অন্যান্য রুটের সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগকে আরও মজবুত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

Read Previous

কলম্বিয়ায় ছোট বিমান দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, স্থানীয় আইনপ্রণেতা সহ

Read Next

বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে সেন্টমার্টিন ও সি-বিচ বিওপির উদ্বোধন: সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন মাইলফলক

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular