
পহেলা বৈশাখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুর সদরে । সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের বিদ্যাস্বরি এলাকায় সুখসাগরের পূর্বপারে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পিঠে বড়শি গেঁথে একজন ভক্তকে চড়কে ঘোরানো হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ হাজার উৎসুক দর্শনার্থীর ভিড় জমে। পূজায় চড়কের এক পাশে বড়শিতে গেঁথে এক ভক্তকে অন্য পাশ থেকে দড়ি টেনে ঘোরানো হয়। চড়ক ঘোরানোর সময় শঙ্খ ধ্বনি ও ঢাকঢোল বাজানো হয়।

শত বছরের পরম্পরায় পহেলা বৈশাখের বিকেলে এই চড়ক পূজা পালন করে আসছেন জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্দিরে কয়েকদিন ধরে হরগৌরী নৃত্য, অসিনৃত্য, শিবের গাজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন স্থানে এ চড়ক ঘোরানো হয়। এ উপলক্ষে অনেক জায়গায় একদিনের মেলা বসে।
এক ভক্ত জানায় এখানে মহাদেব ঠাকুরের পূজা ও আরাধনা করা হয়। প্রতিবছরই এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে যাকে চড়ক হিসেবে ঘোরানো হয়, তিনি তার হাতে থাকা কলার ছড়ি থেকে মেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ছুড়ে দেন। এসময় দর্শনার্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন কলা সংগ্রহ করার জন্য। এ ছাড়া দর্শনার্থীরা ভিবিন্ন কারনে মানত করে নিয়ে আসা কবুতর ছড়িতে থাকা ব্যাক্তি মুখ দিয়ে ছিন্নছেদ করে তাদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেন। এক ভক্ত বলেন আমার কোনো সন্তান নেই। শুনেছি এ কলা খেলে সন্তন লাভ করা যায়। অনেক কষ্টে একটি কলা পেয়েছি। আমি ও আমার স্বামী সন্তানের আশায় কলাটি ভগবানের নামে খাবো।

পূজা শেষে কথা হয় চড়কে ঘোরানো ব্যাক্তি সম্ভু রায়ের (৬২) সঙ্গে। তিনি বলেন, এ নিয়ে ১৭-১৮ বার চড়ক হিসেবে ঘুরেছি। আমি সুস্থ আছি। কোনো দিনই কোনো সমস্যা হয়নি। পুণ্য লাভের আশায় এ কষ্ট করি।
দুলাল চন্দ্র রায় নামে আয়োজকদের একজন বলেন, প্রাচীন রাজাদের আমল থেকে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ছোটবেলা থেকে এ চড়ক ঘোরানো দেখে আসছি। আমার দাদা, আমার পিতার পর আমিও এ আয়োজনে অংশ নিয়ে আসছি ভবিষ্যতে আমার সন্তান আয়োজন করবে বলেই আশা রাখি। এবার প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী জমায়েত হয়েছে এ চড়ক পূজা দেখতে।



