
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও উত্তেজনার আঁচ। এমন পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের ছোট বোন রাজকুমারী চুলাবর্ন। রাজপরিবার সাধারণত রাজনৈতিক বা সামরিক ইস্যুতে মুখ খোলেন না, তাই তাঁর এই মন্তব্যকে অস্বাভাবিক ও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্যাংককে সামরিক বৈঠকে প্রাচীর প্রস্তাব
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক সামরিক বৈঠকে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে রাজকুমারী চুলাবর্ন বলেন,
“কম্বোডিয়ার সঙ্গে আমাদের যে সীমান্ত অঞ্চল রয়েছে, সেখানে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী প্রাচীর নির্মাণের উপায় নিয়ে ভাবতে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে হবে। এটি অস্থায়ী কিছু নয়, দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা কাঠামো হতে হবে।”
তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাদের জন্য বাঙ্কারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আলাদা বাঙ্কার তৈরির প্রস্তাব দেন।
৮০৪ কিলোমিটার সীমান্ত, তবু শান্তি অনিশ্চিত
থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া প্রায় ৮০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অঞ্চল এখনও বিতর্কিত। এ বছর জুলাই মাসে এমনই একটি বিতর্কিত এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত সশস্ত্র সহিংসতায় রূপ নেয়। উভয় দেশের বেশ কয়েক ডজন সেনা ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি, অস্থির রাজনীতি
সংঘর্ষের পর আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকির পর দুই দেশ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে স্থলসীমান্তে এখনও নজিরবিহীন উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়লো
থাই রাজপরিবার সাধারণত রাজনৈতিক ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকতে পছন্দ করে। তাই রাজকুমারীর এই মন্তব্য কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সীমান্তে স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণের ধারণা বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ যোগ করবে।



