
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তা নদীর পানি। রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে, যা ক্রমেই বেড়ে দুপুরে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছায়। ফলে আবারও চাপে পড়েছে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিচু এলাকাগুলো।
নদীপাড়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে তিস্তা ব্যারাজ, বাইশপুকুর চর, গড্ডিমারী ও চন্ডিমারীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাওয়া পর্যটকরা ভ্রমণ বাতিল করছেন বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
ডিমলার পূর্বখড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক সোলেমান আলী বলেন, “আমনের সব চারা ডুবে গেছে। প্রতিদিন পানি বাড়ছে। এরকম পরিস্থিতিতে কেউ আর ঘোরাঘুরি করবে না।”
বাইশপুকুর চরের মর্জিনা বেগম বলেন, “আমরা সাহায্য চাই না, চাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন। প্রতি বছরই এই দুর্ভোগ দেখতে হয়।”
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ ইতোমধ্যেই আংশিক প্লাবিত। এসব এলাকার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও দর্শনার্থী আসা বন্ধ হয়ে গেছে।
সিন্দুর্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম জানান, “নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি ওয়ার্ডে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জরুরি সহায়তা দরকার।”
তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় নিযুক্ত পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, “পানির প্রবাহ বাড়ছে এবং তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “এখনো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
অন্যদিকে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “উজান থেকে প্রচুর পানি আসছে এবং স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিও অব্যাহত রয়েছে। আমরা সর্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আছি।”
তিস্তা নদীভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়নের স্বপ্ন অনেক পুরোনো। কিন্তু প্রতি বছর এই বন্যা পরিস্থিতি ওই স্বপ্নকে দুরূহ করে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী সমাধান ছাড়া তিস্তা হয়ে উঠবে শুধুই দুর্ভোগের প্রতীক।



