
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সরকারি বা সাপ্তাহিক ছুটি মিললেই পাহাড়প্রেমীরা রওনা হন বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দুর পথে—যে এলাকা এখন পরিচিত ‘পাথরের রাজার দেশ’ নামে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিশাল সব শিলা, সাঙ্গু নদীর রূপসী নৌপথ আর অরণ্যের নীরব সৌন্দর্য মিলিয়ে তিন্দু এখন দেশের অন্যতম অ্যাডভেঞ্চার স্পট।
বংডহ—মারমা সংস্কৃতির পবিত্র ‘মুকুটধারী রাজা পাথর’
তিন্দুর সবচেয়ে আলোচিত প্রাকৃতিক আকর্ষণ বংডহ ক্যহলুং। মারমা ভাষায় এর অর্থ—‘মুকুট পরা রাজা পাথর’। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বহু পুরোনো এক সাধক ধ্যানমগ্ন অবস্থায় সাঙ্গু নদীর এই স্থানে অবস্থান করেছিলেন। ধ্যান শেষ করে ফেরার সময় তিনি অসাবধানতাবশত নিজের পাগড়ি (গবং) পাথরের ওপর ফেলে যান, যা আজও পাথরের মাথায় মুকুটের মতো স্থির হয়ে আছে বলে মনে করেন মারমা সম্প্রদায়। সেখান থেকেই নাম—বংডহ, অর্থাৎ রাজা পাথর।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ফিরছে পর্যটনের প্রাণ
কেএনএফ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মদক, তিন্দু এবং বাকলাই পাড়া পর্যন্ত পর্যটক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় দোকান, গাইড, নৌচালক ও লজ মালিকরা আবারও আয়-রোজগারের আশায় সরব হচ্ছেন।
সাঙ্গু নদীর নৌপথ—অ্যাডভেঞ্চারের শুরু এখানেই
থানচি সদর থেকে সাঙ্গু নদী ধরে নৌপথে মাত্র ১২ কিলোমিটার উজানেই তিন্দু। নৌযাত্রার পুরো পথ জুড়েই দেখা যায় রুক্ষ পাথরের সারি, পানির স্বচ্ছ স্রোত আর দু’পাশের পাহাড়ি বন। বর্ষার পানি কমতে শুরু করলে নদীর বুকে দৃশ্যমান হয় অগণিত পাথরের স্তর—যেন প্রকৃতি নিজেই সাজিয়েছে অ্যাডভেঞ্চারের ট্রেইল।
ঢাকা থেকে আগত এক পর্যটকের ভাষায়—
“তিন্দু যেন পাহাড়ি স্বর্গ। পাথর, নদী আর কুয়াশামাখা পাহাড় মিলিয়ে এমন রহস্যময় রূপ দেশের আর কোথাও দেখিনি।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার
থানচি থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, নৌযাত্রায় লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পুরো রুটে নিয়মিত টহল দিচ্ছে যাতে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
তিন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভাগ্যরাং ত্রিপুরা বলেন—
“নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর পর্যটক আসা শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সব স্পট পুরোপুরি খুলে যাবে, আর এখানকার মানুষের জীবনে ফিরে আসবে কর্মচাঞ্চল্য।”
তিন্দু ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
- লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌযাত্রা করবেন না
- বর্ষার স্রোতে কিছু জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ — গাইড ছাড়া যাওয়া নিষেধ
- স্থানীয় সংস্কৃতি ও পবিত্র স্থানগুলোর প্রতি সম্মান বজায় রাখুন
- রাতের ক্যাম্পিং করতে হলে আগে থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে অনুমতি নিতে হবে



