ঢাকা বিমানবন্দরে ভূমিকম্পের পর ফাটল, বুয়েটের জরুরি পরিদর্শন শুরু

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ভোরের তীব্র ভূমিকম্প শুধু রাজধানীর মানুষকেই নয়, নাড়িয়ে দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেও। কম্পনের পর টার্মিনালের একাংশে ফাটল দেখা দিলে দ্রুতই বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শনে নেমেছে। এখনো কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টার মাথায় বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারির নেতৃত্বে একটি দল বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়। প্রধানত ৪ এবং ৫ নম্বর গেটের মাঝামাঝি প্রস্থান টার্মিনালের অংশে ক্ষতি দেখা যাওয়ায় সেই জায়গায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ছাদের সংযোগস্থলে কয়েকটি ফাটল মিলেছে, আর কিছু সিলিং প্যানেল ভেঙে নিচে পড়ে আছে।

অধ্যাপক আনসারি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা দেবেন। জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত টার্মিনালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফ্লাইট স্বাভাবিক, তবে সতর্কতা জোরদার

দৃশ্যমান ক্ষতি থাকলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে — ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। নির্ধারিত সব ফ্লাইট সময়মতো উঠানামা করছে। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরো টার্মিনাল ভবন নতুন করে পরীক্ষা করা হবে। দীর্ঘ কম্পনে ভবনের অন্য অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই এখনই কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা।

যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা, নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার

ভূমিকম্পের সময় ও পরে যাত্রী এবং কর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত বাইরে চলে যান, পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফিরে আসেন। তবুও টার্মিনালের ভেতরে ফাটল দেখা যাওয়ায় যাত্রীদের উদ্বেগ কাটেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নিচে অস্থায়ী সাপোর্ট স্ট্রাকচার বসানো হয়েছে, যাতে বিশেষজ্ঞ দল ঝুঁকি ছাড়াই পরিদর্শন করতে পারে।

ঢাকার অবকাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল — ঢাকার অনেক বড় অবকাঠামো এখনো দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন যে অপরিকল্পিত নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং ভূমিকম্প সহনশীলতা কম হওয়ায় রাজধানী প্রতি মুহূর্তেই ঝুঁকিতে রয়েছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফাটল দেখা যাওয়া সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে।

বিশদ রিপোর্টের অপেক্ষা

বুয়েটের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং টিম এখনো কাজ করছে। যাত্রী চলাচলের পথ, বোর্ডিং ব্রিজ, ছাদের লোড-বহনকারী অংশসহ সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মূল্যায়ন শেষে তারা যে রিপোর্ট দেবে, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিমানবন্দরের ফ্লাইট এখনো স্বাভাবিক, তবুও এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে—অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভূমিকম্পের ক্ষত কতটা গভীর এবং তা ভবিষ্যতের জন্য কী বার্তা বহন করছে—সবকিছুই নির্ভর করছে বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ওপর।

Read Previous

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ

Read Next

ডিজিটাল বুকিংয়ে ১৫% ছাড় ঘোষণা করল নভোএয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular