
ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট আবার শুরু হচ্ছে, ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বারো বছর ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা–করাচি আকাশপথ আবার খুলতে যাচ্ছে। সিদ্ধান্তটি শুধু একটি রুট পুনরায় চালু হওয়ার খবর নয়—এটি দুই দেশের বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিগত অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাজনিত স্থবিরতা শেষ হয়েছে, আর এখন সবকিছু এগোচ্ছে বাস্তবায়নের দিকে।
এখানে মূল বিষয় হলো সময়, খরচ এবং সুবিধা—এই তিনটি জায়গায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। যাত্রীরা এতদিন করাচি যেতে গিয়ে অযথাই সময় নষ্ট করতেন। একটা সরাসরি তিন ঘণ্টার যাত্রা প্রায়শই আঠারো ঘণ্টায় গড়াত, কারণ তাদের মধ্যপ্রাচ্য ঘুরে যেতে হতো। তাতে ব্যয় বাড়ত, যন্ত্রণা বাড়ত, আর টিকিটের দামও কখনো কখনো এক লক্ষ টাকার ওপরে উঠত। নতুন সিদ্ধান্ত সেই দুর্ভোগ কাটাতে যাচ্ছে।
নীতিগত অনুমোদনের পর এখন চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন শিগগিরই ইসলামাবাদ ও করাচিতে বৈঠক করবেন। আলোচনার টেবিলে থাকবে ফ্লাইট সূচি, অপারেশনাল কাঠামো, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং নতুন রুট থেকে দুই দেশের সম্ভাব্য লাভ। প্রাথমিক প্রস্তাবে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সংযোগ শুধু যাত্রীসেবা নয়—এটি বাণিজ্যের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুবিধা সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পোশাক, ওষুধ, জাহাজ ও ইলেকট্রনিকসের চাহিদা বাড়ছে। সরাসরি কার্গো ফ্লাইট খুলে গেলে পরিবহন ব্যয় কমবে, সময় বাঁচবে, আর ব্যবসায়ীরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে পারবেন। একইভাবে পাকিস্তান থেকেও বিভিন্ন কাঁচামাল ও পণ্য দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবসম্পদ ও শিক্ষা খাত। করাচিতে বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী নিয়মিত যাতায়াত করেন। সরাসরি রুট সেই চলাচলকে আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করবে। যারা নিয়মিত করাচি–ঢাকা যান, তাদের কাছে এই রুট পুনরায় চালুর খবর এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মধ্যপ্রাচ্য ধরে ঘুরে যাওয়া শুধু খরচ বাড়ায়নি, বরং অনেক সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিবহনকে অপ্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছিল। সরাসরি ফ্লাইট ফিরলে সেই বাধা কমবে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো—কবে আকাশে উঠবে প্রথম ফ্লাইট? সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী মাসের শুরুতেই ঢাকা থেকে করাচি আবার সরাসরি যাত্রীবাহী বিমান উড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত কাজ করছে, যাতে শিডিউল, ভাড়া এবং আনুষ্ঠানিকতাগুলো সময়মতো ঘোষণা করা যায়।
ঢাকা–করাচি রুট পুনরায় চালু হওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু অতীত পুনরুদ্ধার নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা। দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীরা এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত সব কিছুই নির্ভর করছে চূড়ান্ত আলোচনার সাফল্যের ওপর—আর সবাই এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে।



