
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মার্কিন রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় বইছে ওয়াশিংটনে। বুধবার (১২ নভেম্বর) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ২০১১ সালের একটি ইমেইল প্রকাশ করেন, যেখানে ট্রাম্পের নাম উঠে এসেছে এপস্টেইনের সঙ্গে যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গে।
ইমেইল অনুযায়ী, ট্রাম্প নাকি এপস্টেইনের এক বাড়িতে একজন নারীর সঙ্গে “ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন” এবং এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও অবগত ছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের দাবিতে নতুন চাপ
ডেমোক্র্যাট সদস্যদের মতে, এই ইমেইলটি “ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এপস্টেইনের অপরাধমূলক সম্পর্কের সরাসরি প্রমাণ” হতে পারে। তারা বলছেন, এ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে এপস্টেইন সম্পর্কিত সব গোপন নথি উন্মুক্ত করার দাবিটি আরও জোরালো হয়েছে।
ট্রাম্প অতীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় গেলে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সমস্ত ফাইল প্রকাশ করবেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসে বসার পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন। বরং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই মামলার বিষয়ে আর কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করার নেই।”
তবে চার মাস আগেও যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন মামলাটি বন্ধ ঘোষণা করেছিল, সেখানে নতুন ইমেইল ফাঁসের পর বিষয়টি নিয়ে আবারও রাজনৈতিক তর্ক শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পাল্টা অবস্থান
এদিকে হোয়াইট হাউস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুরো ঘটনাকে “ভুয়া প্রচারণা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, “এই ইমেইলগুলো ট্রাম্পের কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না। ডেমোক্র্যাটরা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ এখন এমন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যখন তারা বাস্তব সমস্যার সমাধান চায়। কিন্তু বিরোধীরা পুরনো ষড়যন্ত্রের গল্প টেনে এনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে।”
পুরনো সম্পর্ক, দূরত্ব ও প্রশ্ন
ট্রাম্প নিজেও বহুবার বলেছেন যে, জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। তার ভাষায়, “আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, কিন্তু সেটা ছিল বহু বছর আগের বিষয়।”
প্রতিবেদনগুলো বলছে, নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিকে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ছিল। দুজনকে একাধিক পার্টি ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেছে। তবে ২০০৪ সালের দিকে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং এরপর থেকে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ঢেউ
নতুন ইমেইল প্রকাশের পর শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, গণমাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য “বড় ধরনের মাথাব্যথা” তৈরি করতে পারে। কারণ, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়—যেখানে উচ্চপদস্থ রাজনীতিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটির নামও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান নেতারা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, “এটি ডেমোক্র্যাটদের সাজানো নাটক, যার উদ্দেশ্য ট্রাম্পের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।”
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এপস্টেইন ফাইলের নতুন অংশ প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বেড়েছে। এই বিতর্ক কতটা ট্রাম্পের নির্বাচনী সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।



