পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চূড়ান্ত বাণিজ্যনীতি উদ্যোগের দিকে এগোচ্ছেন, যার প্রভাব পড়তে পারে ভারতসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশের অর্থনীতিতে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে ভারতও তার প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না।
সিনেটের একটি বিল অনুযায়ী, যেসব দেশ একদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে পণ্য কিনছে এবং অন্যদিকে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে না, সেসব দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশমুখে বিপুল শুল্ক আরোপ করা হবে। ৮৪ জন সিনেটরের সমর্থন পাওয়া এই বিল আগামী আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিলটি পাশ হলে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের একাংশ চাইছে বিলের ভাষা কিছুটা নমনীয় করা হোক— ‘হবে’ এর বদলে ‘হতে পারে’— যেন আইনের প্রয়োগে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করা যায়। তবে লিন্ডসে গ্রাহামের মতে, ট্রাম্প এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং তিনি নিজেই বিলটি উত্থাপনের সময় বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা আসতে পারে। কারণ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পৌঁছেছে সর্বোচ্চ ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ছিল মাত্র ১০.১ বিলিয়ন। মূলত রাশিয়ান তেল আমদানির হার বেড়ে যাওয়ায় এই বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
ভারত-রাশিয়া অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এই প্রসারে নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার। কিন্তু ট্রাম্পের এই কঠোর বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপ হলে শুধু আমদানি-রপ্তানিতে নয়, পর্যটন, প্রযুক্তি, শক্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও ভারতীয় বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রভাবিত হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক ও কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন এক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এবিসি নিউজ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রিপাবলিকান সিনেট প্রেস কনফারেন্স



