১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক: ইউক্রেনকে সমঝোতার পরামর্শ, পুতিনকে নিয়ে শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। তার ভাষায়, ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া, কারণ “রাশিয়া একটি বিশাল শক্তি, আর তারা নয়।”

শুক্রবার আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও পুতিন যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে “মূলত একমত” হয়েছেন। পুতিন নাকি যুদ্ধ থামাতে রাজি আছেন যদি কিয়েভ পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে দেয়। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ দখলে নিয়েছে, যার মধ্যে দোনেৎস্কের বড় অংশও রয়েছে। জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে হলে সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া তা সম্ভব নয়। তার মতে, স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো শহরগুলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প অবশ্য বিশ্বাস করেন, যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি। তার ভাষায়, “যুদ্ধবিরতি প্রায়ই টেকে না, তাই শান্তিচুক্তিই সমাধান।” ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তি এখন হাতের নাগালেই, তবে ইউক্রেনকে রাজি হতে হবে।

অন্যদিকে, জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া এখনো যুদ্ধ থামাতে অনিচ্ছুক, আর সেটাই বড় বাধা। তিনি স্থায়ী শান্তির শর্ত হিসেবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর জোর দেন। এই বিষয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে “ইতিবাচক সংকেত” পাওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারাও থাকতে পারেন।

এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ন্যায়সঙ্গত শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অপরিহার্য। পুতিনও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কথা বলেছেন, যদিও তিনি বিদেশি সেনা জড়িত থাকার বিরোধিতা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসা পুতিন কূটনৈতিকভাবে একটি বড় সাফল্য পেলেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন— এই প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি কি আসলেই যুদ্ধ থামাতে পারবে, নাকি নতুন করে আরও জটিলতা তৈরি করবে?

Read Previous

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়লো চারটি গুদাম

Read Next

নামিবিয়া-জিম্বাবুয়ের মাঠে বসছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ সরাসরি মূল পর্বে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular