
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতে, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণের পরিবর্তে তা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঘোষিত এই দলিলটি ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার একটি “অসম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি”, যা সর্বজনীন হতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইতিহাস বিকৃতির নজির রেখেছে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন, নিপীড়ন ও গুম-খুনের বিরুদ্ধে জনগণের বিস্ফোরণ। কিন্তু ঘোষণাপত্রে অভ্যুত্থানপন্থি ছাত্র-জনতার মূল লক্ষ্য—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত—উপেক্ষিত হয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, দলিলটিতে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেমন ১৯৪৭-এর মুক্তিসংগ্রাম, বিভিন্ন আন্দোলন (পিলখানা হত্যা, শাপলা চত্বর গণহত্যা, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ, মোদিবিরোধী আন্দোলন, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন) অনুল্লেখিত রয়েছে। এছাড়া এটি স্বঘোষিত প্রক্লেমেশন না হয়ে কেবল একটি ডকুমেন্ট হিসেবে রয়ে গেছে, যা নিজস্ব ক্ষমতায় কার্যকর নয় এবং পরবর্তী সরকারের বৈধতার ওপর নির্ভরশীল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মূলত কেবলমাত্র ঘষামাজা করা। প্রয়োজন একটি নতুন সংবিধান বা মৌলিক সংস্কার, যা নির্বাচিত গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে প্রণয়ন করতে হবে। শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা দিলেও হত্যাকারীদের বিচারের প্রসঙ্গ স্পষ্ট নয়, এমনকি শহীদদের প্রকৃত সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভিযোগ করে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি সংসদের হাতে তুলে দেওয়া সংস্কার প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত ও সংকুচিত করেছে। তাদের মতে, এটি ‘সংস্কারকে বিলীন’ করার সমতুল্য।
সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “সংস্কার বাস্তবায়নের সঠিক পথ নির্ধারণ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি ন্যায়বিচার করুন।”



