
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল ভবিষ্যতে পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত ‘মেনিফেস্টো টক’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনায় তিনি এই সতর্ক বার্তা দেন। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতিহারে পানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা পেতে হলে রাজনৈতিক স্বার্থ ও জনস্বার্থকে এক সুতোয় গাঁথতে হবে। পরিবেশকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে ফেলবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, নদী ও বন দখল করে গড়ে ওঠা বসতিগুলো উচ্ছেদ করতে গেলে মানবিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এসব দখলদারিত্বের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া।
“বাজেটে পরিবেশের জন্য বরাদ্দ থাকে সবচেয়ে কম। অথচ পরিবেশ পুনরুদ্ধারে এটি গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত ইটভাটাগুলো বাতাসের প্রধান দূষণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, “ইটভাটা সরাতে না পারলে বায়ুদূষণ রোধ অসম্ভব।” পাশাপাশি, তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, “একটি সুন্দর জিনিসকে কিভাবে নষ্ট করতে হয় তা দেখতে হলে বাংলাদেশে আসতে হবে। এই বাস্তবতা বদলাতে হলে আমাদের প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। সবাইকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।”
পর্যটন ও পরিবেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এ ধরনের বার্তাগুলো শুধু রাজনৈতিক বা নীতিনির্ধারকদের জন্য নয়, পরিবেশ সচেতন প্রতিটি নাগরিকের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাও অনেকাংশে নির্ভর করে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার ওপর।



