
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল এবং শিমন সাগাগুচি। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্র: পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স
তিন বিজ্ঞানীর যৌথ গবেষণার মূল বিষয় ছিল পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স—একটি প্রক্রিয়া যা শরীরকে নিজস্ব কোষ বা ক্ষতিকারক নয় এমন বহিরাগত উপাদানের বিরুদ্ধে ভুলবশত প্রতিরোধ গড়ে তোলা থেকে রক্ষা করে। সহজভাবে বললে, এই প্রক্রিয়াই শরীরকে শেখায় কখন লড়াই করতে হবে, আর কখন নয়। এই আবিষ্কার অটোইমিউন রোগ, অ্যালার্জি এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও উন্নত করার পথ খুলে দিয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণা ও আয়োজন
সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুরে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। বরাবরের মতোই নোবেল কমিটি ঘোষণার আগে মনোনীতদের নাম বা সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেনি। নথিপত্রও কঠোর গোপনীয়তায় সংরক্ষিত ছিল।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ও অর্থমূল্য
১৯০১ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। শান্তি, সাহিত্য, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা এবং অর্থনীতি—এই ছয়টি ক্ষেত্রে প্রতি বছর অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে নোবেল ফাউন্ডেশন।
নোবেলজয়ীরা প্রত্যেকে পাবেন একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদ এবং মোট ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা)। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ সমানভাবে ভাগ করা হয়।
আলফ্রেড নোবেলের উত্তরাধিকার
উনবিংশ শতকে আলফ্রেড নোবেল ‘ডিনামাইট’ আবিষ্কার করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর ৩ কোটি ১০ লাখ ক্রোনা সম্পত্তি (বর্তমান মূল্যে প্রায় ১৮০ কোটি ক্রোনা) রেখে যান মানবকল্যাণমূলক এই পুরস্কার প্রতিষ্ঠার জন্য।
এভাবেই তাঁর আবিষ্কারের ধ্বংসাত্মক শক্তি পরিণত হয়েছে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর এক অনন্য প্রতীকে।
চিকিৎসায় এবারের তিন বিজয়ীর কাজ সেই ঐতিহ্যেরই নতুন অধ্যায়—যেখানে বিজ্ঞান শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং মানবদেহের অন্তর্গত ভারসাম্যের গভীর রহস্য উন্মোচন করছে।



