
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দুদিনের টানা বৃষ্টি ও প্রবল তুষারঝড়ে মাউন্ট এভারেস্টের পূর্ব দিকের তিব্বত সংলগ্ন এলাকায় আটকা পড়েছিলেন হাজারেরও বেশি অভিযাত্রী। টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত থেকে এভারেস্টের কাংশুঙ অঞ্চলে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত। এরপরই বইতে থাকে প্রবল তুষারঝড়। চীনে টানা আট দিনের ছুটি থাকায় ওই সময় কাংশুঙের কর্মা উপত্যকায় ভিড় ছিল হাজারো পর্যটক ও ট্রেকারের। কিন্তু আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনে ৪,২০০ মিটার (১৩,৮০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত পুরো উপত্যকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
রোববার (৫ অক্টোবর) আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও অংশ নেন এই অভিযানে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কয়েকশ অভিযাত্রী ও ট্রেকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, যাদের ধীরে ধীরে উদ্ধার করা হচ্ছে।
এক অভিযাত্রী, চেন গেশুয়াং, জানান—“তীব্র ঠান্ডায় অনেকেরই হাইপোথার্মিয়া হচ্ছিল। অক্টোবরে এমন আবহাওয়া আগে কখনও দেখিনি। আমাদের গাইডও বিস্মিত।”
তার সহযাত্রী এরিক ওয়েন বলেন, “আমাদের কাছে মাত্র কয়েকটি তাঁবু ছিল। এক একটি তাঁবুতে ১০ জনেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। তুষারপাত এতটাই প্রবল ছিল যে প্রতি ১০ মিনিট পরপর তাঁবুর ওপর জমে থাকা তুষার সরাতে হচ্ছিল, নইলে সেগুলো ধসে পড়ত।”
প্রবল ঠান্ডায় তাদের দলের অন্তত তিনজন হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল আছেন।
চীনা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সব অভিযাত্রী নিরাপদে ফিরে আসছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন তীব্র তুষারঝড় অক্টোবরে বিরল ঘটনা, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্নও নতুন করে তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স



