
পর্যযটন সংবাদ। মৌলভীবাজার প্রতিবেদক: সবুজ চা-গাছের ছায়া আর পাহাড়ি টিলায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পামগাছের সারি—এই অপূর্ব দৃশ্য দেখতে হলে ঘুরে আসতে পারেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা-বাগান থেকে। এখানকার স্থানীয়রা যেটিকে ভালোবেসে ডাকেন ‘পামটিলা’ নামে, সেই জায়গাটি এখন হয়ে উঠছে এক নতুন পর্যটন আকর্ষণ।
পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ চা-বাগানের মাঝে তিনটি টিলাজুড়ে প্রায় ২০০টি পামগাছ শোভা পাচ্ছে। এসব গাছের অধিকাংশই এখন ফল ধরেছে, অনেক পামের রং ধরেছে কালচে। এই টিলা ও গাছের সৌন্দর্য দূর থেকে পথচারীদের নজর কাড়ে এবং পর্যটকদের এক মনোরম অভিজ্ঞতা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক বাগান শ্রমিক অজিত কৈরি জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে বাগানটির আগের ইজারাদার শখ করে এই পামগাছগুলো লাগিয়েছিলেন। সেই সময়ের নিঃশব্দ প্রয়াস এখন রূপ নিয়েছে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শনে।

পামটিলা শুধু দেখার জায়গাই নয়, বরং এটি এখন স্থানীয়দের বিশ্রামের স্থান ও শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠও বটে। অনেকেই গবাদিপশু চরাতে গিয়ে এখানে বিশ্রাম নেন, কেউ আবার গাছের ডাল পরিষ্কার করেন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য। এমনই এক কিশোর রমন জানায়, “মরা ডাল কাটলে গাছ সুস্থ থাকবে, বড় হবে।”
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য পামটিলা হতে পারে এক অপূর্ব গন্তব্য। কুলাউড়া পৌর শহর থেকে গাজীপুর চা-বাগান হয়ে রাঙ্গিছড়া বা মুরইছড়া যাওয়ার পথে সহজেই যাওয়া যায় এই জায়গায়। পর্যটনের জন্য এই অনন্য স্থানটিকে এখনো সরকারিভাবে প্রচার বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে কালিটি চা-বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে গাছগুলোর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পর্যটকদের জন্য এ স্থান হতে পারে প্রকৃতি আর প্রশান্তির সন্ধানস্থল। মৌলভীবাজার ঘুরতে গেলে পামটিলা না দেখলে বোধহয় সফরটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।



