
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ঘুষের দুই লাখ ছিয়াত্তর হাজার টাকা সহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক দেখানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে কয়েকদিন ধরে বেনাপোলজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে তাকে প্রথমে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে ওঠে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর জেলা কার্যালয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে শামীমা আক্তার ও স্থানীয় এক এনজিও সদস্য হাসিবুর রহমানকে ঘুষের টাকা সহ আটক করে। তবে টানা পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত নয়টার দিকে কাস্টমস কমিশনারের কক্ষে গোপন বৈঠকের পর দুদক কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে শামীমাকে ছেড়ে দেন।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ বেনাপোল কাস্টমস ভবনের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এমনকি দুদক কর্মকর্তাদের গাড়িও ঘেরাও করে তারা।
বর্ধিত জনচাপ ও সমালোচনার মুখে পরদিন মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে দুদক আবারও শামীমা আক্তারকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক দেখায়। এরপর সহকারী পরিচালক আল আমীন বাদী হয়ে শামীমা আক্তার ও হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক উভয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের এক কর্মকর্তার ভাষায়, “প্রাথমিক তদন্তে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ মেলেছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, “দুদক কর্মকর্তারা প্রথমে যেভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন, তাতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।”
ঘুষের ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউস আবারও আলোচনায়—আর জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান কতটা সত্যিই নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।



