
নিজস্ব প্রতিবেদক | পর্যটন সংবাদ: রাজধানীর কে বি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে গেরিলা প্রশিক্ষণ আয়োজনের অভিযোগে আলোচনায় আসা সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে তিনি ডিবির হেফাজতে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখা।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের জানান, গোপন বৈঠকে জড়িত থাকার অভিযোগে সুমাইয়া জাফরিন নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা সংলগ্ন কে বি কনভেনশন সেন্টারে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় ৪০০ নেতা-কর্মীকে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। দিনভর চলে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। বৈঠকে সরকারবিরোধী নানা পরিকল্পনা, স্লোগান ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
এ ঘটনায় ১৩ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা, বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও মেহেরপুরের যুবলীগ আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, পুরো আয়োজনের পেছনে ছিলেন মেজর সাদিকুল হক। তার পরিকল্পনায়ই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বৈঠক হয়। তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সুমাইয়ার পরিচয় নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। তাকে পুলিশের সহকারী সুপার (এএসপি) বলা হলেও পরে পুলিশ সদর দফতর নিশ্চিত করে, এ নামে পুলিশের কোনও কর্মকর্তা নেই।
এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মেজর সাদিকুল হককে ইতোমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, ১৭ জুলাই রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতিতে পুনরায় উত্থানের জন্য একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ গোপন বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল।
তদন্ত এখনো চলমান, এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে—দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।



