পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা অভিযানে আবারও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাত্র একদিনেই নিহত হয়েছেন আরও ৬৪ ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন মানবিক সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজার প্রধান শহর গাজা নগরীতে গভীরভাবে প্রবেশ করেছে। পুরো মহল্লা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না। এর মধ্যেই খাদ্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার গাজার পূর্বাঞ্চলের একটি জনবহুল বাজারে বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ভোর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে নিহতদের মধ্যে অনেকেই নারী-শিশু।
প্যালেস্টাইনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত গাজার জায়তুন ও সাবরা এলাকায় অন্তত এক হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।
এদিকে, মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাও বেড়ে চলেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত মে মাসে জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্যের লাইনে দাঁড়িয়ে নিহত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ।
অবরোধের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, প্রতিদিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং জরুরি সেবাগুলো ভেঙে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন। এ নিয়ে ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুধায় প্রাণহানি দাঁড়াল ৩০৩ জনে, যাদের মধ্যে ১১৭ জন শিশু।
গাজার লেখক সারা আওয়াদ বলেন, প্রতিদিন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে— ঘরে থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি নেবে, নাকি আবারও উদ্বাস্তু হবে। তার ভাষায়, এখন মনে হচ্ছে গাজা নগরীতে ফিলিস্তিনিরা তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছে।



