গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠনে বহু দেশের আগ্রহ, জানালেন মার্কো রুবিও

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তার দাবি, ইতিমধ্যে ‘অনেক দেশ’ এই উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিয়ে ইসরায়েলের আস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

ইসরায়েল সফরে থাকা অবস্থায় রুবিও বলেন, পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। যদিও হামাসের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হলে গাজায় বাহিনী মোতায়েন করা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

রুবিওর ভাষায়, “গত দুই সপ্তাহে আমরা ঐতিহাসিক অগ্রগতি দেখেছি, যদিও সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। তবুও এটাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, এবং আমরা বিশ্বাস করি এটি কার্যকর হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের মতো হামলা আর কখনও না ঘটে। গাজা এমন এক স্থানে পরিণত হবে, যা আর কারও জন্য হুমকি নয়—না ইসরায়েলের, না ফিলিস্তিনিদের জন্য।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে ব্যাপক হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যার তথ্য জাতিসংঘও নির্ভরযোগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে।

রুবিও বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা হবে। “যদি হামাস নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেটি চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, ভবিষ্যতে গাজা শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

রুবিওর সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল সফর করেছেন। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য—ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা সফল করা। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু পদক্ষেপে মার্কিন প্রশাসন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ অবস্থাকে ব্যঙ্গ করে বলছে, “বিবি-সিটিং”—অর্থাৎ নেতানিয়াহুকে কূটনৈতিকভাবে নজরদারিতে রাখা।

সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানায়। এছাড়া পশ্চিম তীর দখলের পক্ষে ইসরায়েলি সংসদের ভোটও সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বিপন্ন হতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ তারা সহ্য করবেন না। এমনকি ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযান নিয়েও আগাম জানানোর দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে নেতানিয়াহু বলছেন, “ইসরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্র—আমাদের হয়ে কেউ সিদ্ধান্ত নেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সহযোগিতার, নিয়ন্ত্রণের নয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন চাপের মুখে নেতানিয়াহুর সরকার জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় পড়েছে। গাজা যুদ্ধকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত, যা ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রুবিও বলেন, “গাজা শান্তি প্রক্রিয়া সহজ নয়, সময় লাগবে, বাধা আসবে, কিন্তু আমাদের এটি সফল করতেই হবে।”

সূত্র: বিবিসি

Read Previous

সাজেক যাওয়ার পথে স্বস্তির খবর: প্রশস্ত হচ্ছে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক

Read Next

হাওর বাঁচলে দেশ বাঁচবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular