
অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এক নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় যাত্রীসহ একটি বোয়িং-৭৩৭ বিমান। ১২১ জন যাত্রী বহনকারী ক্যানবেরা থেকে সিডনিগামী কোয়ান্টাস ফ্লাইট কিউএফ-৮০৩-এ একজন প্রশিক্ষণার্থী পাইলট সিডনির টারমাকে বিমান চালনার সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি ঘটে ১০ জুন, যখন বিমানটি সিডনি বিমানবন্দরে অবতরণ করে নির্ধারিত টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। প্রশিক্ষণার্থী পাইলট অসুস্থ বোধ করার কথা জানানোর পর কেবিনে থাকা অভিজ্ঞ ফ্লাইট ক্রুরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চাপেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তত্ত্বাবধায়ক ক্যাপ্টেন, যিনি কোয়ান্টাসের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে ১১৩ জন যাত্রী, তিনজন পাইলট ও আটজন ক্রু সদস্যসহ বিমানটি নিরাপদে টি-৩ গেটে পৌঁছায়। গেটে পৌঁছানোর কিছু সময় পর চিকিৎসকরা বিমানে প্রবেশ করে অসুস্থ পাইলটকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
কোয়ান্টাসের একজন মুখপাত্র দ্য নাইটলিকে জানান, অসুস্থ পাইলট চিকিৎসাধীন এবং তাকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সিডনিতে অবতরণের পর একজন পাইলটের শারীরিক অক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পাইলটরা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করেন। আমাদের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (ATSB) জানায়, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং নিশ্চিত হয়েছে যে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যুরোর মতে, অবতরণের পর টারম্যাকে থাকা অবস্থায় পাইলট অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারান। ককপিটে আরও দুইজন ফ্লাইট ক্রু ছিলেন, যারা দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন।
ATSB আরও জানিয়েছে, এই ঘটনাটি নিয়ে তারা কোনো আলাদা তদন্ত করছে না।
এর আগে, এমন আরেকটি অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল তিন মাস আগে। কিউএফ-৫০৫ ফ্লাইটে ব্রিসবেন থেকে সিডনিগামী একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানে ক্যাপ্টেন আকাশে ওঠার সময় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। সে সময় ফার্স্ট অফিসার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানে ‘প্যান কল’ জারি করা হয়—যা একটি মেডিকেল জরুরি সংকেত। ফলে বিমানটি দ্রুত অবতরণ করে এবং ক্যাপ্টেনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ATSB জানায়, তারা QF-505 ফ্লাইটের ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে প্রয়োজনে বিস্তারিত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
সূত্র: দ্য নাইলটলি



