
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সপ্তাহের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইপিজেডসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা বা প্রি-প্ল্যানড হামলার শঙ্কায় সারাদেশে কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটকে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
- কেপিআই স্থাপনাগুলোর চারপাশে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন
- বিমানবন্দর, ইপিজেড, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিকম হাবসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো
- সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং তাৎক্ষণিক আটক
- জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় সরাসরি তদারকির নির্দেশ
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট যৌথভাবে কাজ করছে
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনায় সর্বোচ্চ সতর্ক মোডে থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কেপিআই গুলোকে ‘হাইলি সেনসিটিভ জোন’ হিসেবে বিবেচনা করে নজরদারি চালাচ্ছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন,
“দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সারাবছরই নিরাপত্তা জোরদার থাকে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
জনসাধারণের প্রতি সতর্কবার্তা
পুলিশ সাধারণ নাগরিকদেরও সহযোগিতা করতে অনুরোধ করেছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন বা কোনো অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে কেপিআই এলাকাগুলোর আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরপর অগ্নিকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত কোনো নাশকতা রয়েছে কিনা—তা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তাই নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, যা এখন বাস্তবায়ন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



