
পর্যটন নগরী সমুদ্র কন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত স্টুডিওগুলোর সব মালামাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত এসব মালামাল তালিকাভুক্ত করে থানায় হস্তান্তর এবং প্রতিটি স্টুডিও মালিককে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
উক্ত অভিজান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলামের অপসারণের দাবিতে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্যামেরাম্যান ও স্টুডিও মালিকরা।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেল ৫টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াছিন সাদেক। এ সময় অভিযানে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যর।

অভিযানে প্রতিটি স্টুডিও থেকে ক্যামেরা, মনিটর-পিসি, কিবোর্ড, মাউস, ল্যাপটপ, আইপিএসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মালামাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল তালিকাভুক্ত করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। জব্দকৃত মালামাল আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্টুডিও মালিকরা ফেরত পাবেন বলেও জানান গ্রাম্যমাণ আদালত।
স্টুডিও মালিক সাইকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এমন অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদেরকে আগে বললে আমরা মালামালগুলো সরিয়ে নিতাম। কিন্তু দোকানের তালা ভেঙে এমনভাবে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের লাখ লাখ টাকার মালামাল এভাবে নেওয়াটা, কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারছি না।
স্টুডিও মালিক মো. হাসান আল আউয়াল বলেন, সরকারি আইন এবং নির্দেশনা আমরা মানি কিন্তু কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের ব্যক্তি মালিকানা দোকানের তালা ভেঙে কেন মালামাল জব্দ করা হয়। লাখ লাখ টাকার মালামাল বৃষ্টিতে ভেজানো হয়েছে গাড়িতে উঠিয়ে। এই মালামাল নষ্ট হয়ে গেলে আমরা পথে বসে যাবো।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালক কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগত পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরাম্যান অবশ্যই থাকবে কিন্তু কোনো ধরনের স্টুডিও থাকতে পারবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এটা কুয়াকাটা বিচ-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, আমরা এর আগেও স্টুডিও বন্ধ করার জন্য বারবার বলেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন মানুষের উসকানিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছেন।



