পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও ভয়াবহ রুশ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন, আহত হয়েছেন আরও ১৫০ জনের বেশি। ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত থেকে ১ আগস্ট শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় থমকে গেছে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, পাশাপাশি কিয়েভের পর্যটন শিল্পেও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।
নিহতদের মধ্যে ১৬ জনই শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সীটি মাত্র ২ বছরের। নিহতদের স্মরণে ইউক্রেন আজ (শনিবার) পালন করছে জাতীয় শোক দিবস।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেনসহ শতাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। রাজধানীর একটি ৯ তলা ভবনের বেশিরভাগ অংশ সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলার ফলে কিয়েভের ঐতিহাসিক স্থান, সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং পর্যটন আকর্ষণীয় অঞ্চলগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যার ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান ও গাইডেড ট্যুর কার্যক্রম।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই হামলা তাদের জীবিকায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের অনেকেই ভ্রমণ বাতিল করছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাগুলোর অনেকেই ইউক্রেনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের পর্যটন খাতে ধস নামে। তবে সাময়িক বিরতির পর চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যটন কিছুটা পুনরুজ্জীবিত হলেও সদ্য ঘটে যাওয়া এই হামলা সেই সম্ভাবনাকে আবারও থামিয়ে দিয়েছে।
পর্যটকদের উদ্দেশে ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত কিয়েভসহ সংঘর্ষকবলিত অঞ্চলগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকদের জন্য নতুন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



