
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের ঝাউবাগান এখন পরিণত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের আবাসে। সরকার কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূল রক্ষায় যে ঝাউগাছ রোপণ করেছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশই কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ পরিদর্শনে দেখা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া থেকে উখিয়ার মনখালী পর্যন্ত অন্তত ১৭ কিলোমিটারজুড়ে তিন হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে এসব ঘরে। অনেক স্থানে গাছ কেটে ফাঁকা জায়গায় নতুন করে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ চলছে।
মাদক ও মানব পাচারের ঘাঁটি ঝাউবাগান
স্থানীয় সূত্র ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝাউবাগানের অনেক স্থাপনাই মাদক কারবার ও মানব পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাতের আঁধারে পাচারের জন্য মানুষ জড়ো করে ট্রলারে করে মালয়েশিয়াসহ বিদেশে পাঠানো হয়। মাদকসেবী ও চোরাকারবারীদের অবাধ বিচরণ রয়েছে এই এলাকায়।
প্রশাসনের নিরবতা ও দায় চাপানোর খেলা
উপকূলীয় বন বিভাগ, স্থানীয় বন বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে গাছ কাটা ও স্থাপনা নির্মাণ রোধ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। বন কর্মকর্তারা লোকবল সংকটের কথা বললেও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বন বিভাগ এখনও পুলিশের সহযোগিতা চায়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ঝাউবাগানের এই সংকট স্থানীয় প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় তোলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
উপকূলের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে
পরিবেশবাদীরা সতর্ক করেছেন, ঝাউবাগান উজাড় হলে উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্র侵 eros এর মুখে পড়বে। এমন অবস্থায় দ্রুত অভিযানে নেমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পুনরায় বৃক্ষরোপণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উদ্ধার অভিযান কবে?
উপকূল রক্ষার নামে কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এখন সেই বনভূমি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসনের মধ্যে দায়সারা মানসিকতা এবং সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রশ্ন উঠেছে—এখনো কি সময় হয়নি কঠোর অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় বনভূমি রক্ষা করার?



