কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলেও এয়ারলাইন নেই, পর্যটন অবকাঠামোই বড় বাধা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর এখন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত। রানওয়ে সম্প্রসারণ শেষ, নতুন টার্মিনালও সেপ্টেম্বরেই চালু হওয়ার কথা। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ঘোষণা দিয়েছে, ২ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাবে।

কিন্তু সমস্যাটা হলো—এখনো কোনো এয়ারলাইন কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক রুট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ভিশন বনাম বাস্তবতা

সরকার কক্সবাজারকে দক্ষিণ এশিয়ার এক বড় এভিয়েশন ও পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। নতুন টার্মিনালে বছরে ১৮ লাখ যাত্রী সেবা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। রানওয়ে এতটাই দীর্ঘ ও প্রশস্ত হয়েছে যে ওয়াইড-বডি বিমানও নিরাপদে নামতে পারবে।

তবু এয়ারলাইনগুলোর হিসাব আলাদা। তাদের দাবি—কক্সবাজার এখনো পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, বিনোদন সুবিধা ও অবকাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে ফ্লাইট চালু করলে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই হবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন।

এয়ারলাইনগুলোর দ্বিধা

ইউএস-বাংলা ঢাকা–কক্সবাজার–ব্যাংকক রুট বিবেচনা করছে, তবে পর্যাপ্ত যাত্রী না পেলে খরচ সামলানো কঠিন হবে। বিমান বাংলাদেশও এখনো সম্ভাবনা যাচাই করছে। বিদেশি এয়ারলাইনগুলোও আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটির সভাপতি দিলরুবা আখতার জানিয়েছেন, কোনো এয়ারলাইন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এয়ার অ্যারাবিয়ার এক কর্মকর্তা বলেন, আগ্রহ থাকলেও শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ওপর।

পর্যটন খাতের ঘাটতি

পর্যটন শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরের সাফল্য মূলত নির্ভর করছে কক্সবাজারের সামগ্রিক পর্যটন খাতের ওপর। আন্তর্জাতিক পর্যটক বাড়াতে ব্র্যান্ডিং, বিনোদন সুবিধা ও মানসম্মত অবকাঠামো জরুরি।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কক্সবাজারে তিনটি পর্যটন পার্কের পরিকল্পনা নিলেও প্রায় এক দশকে কোনো প্রকল্প পূর্ণতা পায়নি। সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক আংশিক কাজ এগোলেও হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণে গতি আসেনি। সোনাদিয়া প্রকল্প তো পরিবেশগত কারণে বাতিলই হয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ আশাবাদী

বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর দিকে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি বড় হাবে পরিণত হবে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে ৪৮ ঘণ্টার ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা চালু করা, যা বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সহায়ক হবে।

বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মর্তুজা হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১,৫০০–২,০০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। পিক সিজনে তা ২,৫০০ ছাড়ায়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও এখন আসল চ্যালেঞ্জ হলো আকাশে ফ্লাইট তোলা নয়, বরং মাটিতে পর্যটন খাতকে দাঁড় করানো। বিমানবন্দরের বিনিয়োগের সুফল পেতে হলে সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি বৈশ্বিক মানের পর্যটন অবকাঠামো ও আকর্ষণ তৈরি করতেই হবে।

Read Previous

ডাকসু নির্বাচন স্থগিতাদেশে আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপ

Read Next

তারেক রেফাত উল্লাহ খান ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular