১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে শারদীয় দুর্গাপূজা: পর্যটক বরণে প্রস্তুত পর্যটন নগরী

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন উৎসবের আবহে সাজছে। সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল জোন—সবখানেই চলছে সাজসজ্জা আর প্রস্তুতি। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হোটেল-মালিক সমিতি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ—সবারই লক্ষ্য একটাই, হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটককে নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে স্বাগত জানানো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার সময় কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে। তাই সমুদ্র সৈকত ও পূজামণ্ডপে থাকবে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন। ট্যুরিস্ট পুলিশও থাকবে সার্বক্ষণিক টহলে। সৈকতের ভেতর ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং বিশেষ টহল টিম রাখা হবে। লক্ষ্য—কোনও ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে।

একজন ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,
“পর্যটকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। এ বছর আমরা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াচ্ছি। পর্যটকেরা নিশ্চিন্তে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।”

হোটেল-মালিক সমিতির প্রস্তুতি

কক্সবাজার হোটেল-মালিক সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, পূজা উপলক্ষে প্রায় সব হোটেলেই বিশেষ ছাড়, সাজসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। পর্যটকদের জন্য খাবারের মানোন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীদের আশাবাদ

সৈকতের পাশের দোকানদার মো. আব্দুল করিম বলেন,
“পূজার সময় প্রচুর লোক আসে। তখন আমাদের ব্যবসা জমে ওঠে। বিক্রি বাড়লে সংসারও ভালো চলে।”

স্থানীয় জনগণের জীবনমান

পর্যটক বাড়লে স্থানীয়দের জীবিকাও চাঙ্গা হয়। পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ, হস্তশিল্প ব্যবসা, ট্যুর গাইড—সবখানেই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা সামুদ্রিক শাঁস, মুক্তা, শাড়ি-থ্রিপিস ও হস্তশিল্প বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার একজন কাউন্সিলর বলেন,
“পূজার সময় পর্যটক বাড়লে স্থানীয় জনগণের আয় বাড়ে। সরকারও কর আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব পায়। ফলে সমগ্র এলাকায় জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ

দুর্গাপূজার সময় স্থানীয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান ও নাটকের আয়োজন করেন। এতে শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, পর্যটকসহ সব ধর্মের মানুষ অংশ নেন। ফলে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কক্সবাজার শুধু ধর্মীয় উৎসবের কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, এটি রূপ নিচ্ছে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক আয়োজনে। পর্যটকরা আনন্দ করবেন, ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে—সবমিলিয়ে কক্সবাজার এখন প্রস্তুত এক প্রাণবন্ত উৎসব নগরী হিসেবে।

স্টাফ রিপোর্টার: মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ

Read Previous

শারদীয় দুর্গাপূজায় বাড়তি নিরাপত্তা, কোনও শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Read Next

সুকুক ব্যবহারে বিপুল সম্ভাবনা, ছোট বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular