
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে শুরু হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো ট্যুরিজম আর্কিটেকচার সামিট। “ডিসকোর্স বাই দ্য শোর: ট্যুরিজম আর্কিটেকচার সামিট ২০২৫” শিরোনামে এই দুই দিনব্যাপী আয়োজন শুরু হবে ১১ জুলাই, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পেঁচারদ্বীপে অবস্থিত পরিবেশবান্ধব মারমেইড বিচ রিসোর্টে।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও স্থায়ী স্থাপত্যচর্চার মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করা। খ্যাতিমান স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের খ্যাতনামা স্থপতি ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়:
এই সম্মেলনে আলোচনার মূল থিম হচ্ছে ইকো-ট্যুরিজম, উপকূলীয় স্থাপনা পরিকল্পনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংরক্ষণ। উদ্বোধনী দিনে “ইকো ট্যুরিজম এবং স্থাপত্যচর্চায় টেকসইতা” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, খোন্দকার হাসিবুল কবির ও এহসান খান। পাশাপাশি সাতজন স্থপতি পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য ভাবনা উপস্থাপন করবেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সূর্যাস্তের সময় একটি গাইডেড মেডিটেশন সেশন ও প্রকৃতি-ভিত্তিক নকশা নির্মাণের অংশটিও থাকবে সম্মেলনের প্রথম দিনের বিশেষ আয়োজন হিসেবে।
দ্বিতীয় দিনে আরও ১০ জন স্থপতি দুটি পৃথক সেশনে তাঁদের পরিকল্পনা ও ধারণা তুলে ধরবেন। সবশেষে মাহমুদুল আনওয়ার রিয়াদ ও নাহাস খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হবে একটি ওপেন ফ্লোর প্যানেল আলোচনা এবং সম্মেলনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।
পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব
বর্তমানে কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে, যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে টেকসই স্থাপত্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এই সম্মেলন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী বলেন, “কক্সবাজার এখনো বিকাশমান পর্যটন অঞ্চল। এই সম্মেলন পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে।”
সমুদ্রপাড়ে স্থায়ী ও পরিবেশ-সচেতন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে এই সম্মেলন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারী স্থপতিরা।



