কক্সবাজারে পর্যটক হয়রানির অভিযোগে অনিবন্ধিত ক্যামেরাম্যান গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পর্যটক হয়রানির অভিযোগে অনিবন্ধিত ক্যামেরাম্যান গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পর্যটক হয়রানির অভিযোগে অনিবন্ধিত ক্যামেরাম্যান গ্রেপ্তার, ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগে এক অনিবন্ধিত ক্যামেরাম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পর্যটন পুলিশ। ছয় মাস আগের একটি ঘটনার সূত্র ধরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা স্থানীয় পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঢাকায় বসবাসকারী দুই বোন। তারা জানান, ছয় মাস আগে কক্সবাজার ভ্রমণের সময় এক ক্যামেরাম্যান তাদের অনুমতি ছাড়াই কিছু ছবি তুলেছিলেন। পরে তারা সেই ছবি কিনতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি নিয়মিত ফোন করতে শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বারবার ফোন করে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং নানা অস্বস্তিকর মন্তব্য করেন।

পুলিশকে ফোনে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা কখনও ওই ক্যামেরাম্যানকে ফোন করেননি। বরং তিনিই বারবার কল করে হয়রানি করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তারা কল লগও দেখান। ভুক্তভোগীদের ভাষায়, “এর কারণে আমাদের পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুতেই অশান্তি তৈরি হয়েছে।”

অভিযোগ পাওয়ার পর পর্যটন পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মো. আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে অভিযুক্ত ক্যামেরাম্যানের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এমনকি তার নিজের পরিচয় ও ক্যামেরার নথিতে থাকা নামও মিলছিল না। ঠিকানায়ও ছিল স্পষ্ট অসঙ্গতি।

এডিআইজি মাহমুদ বলেন, “কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। নিবন্ধনবিহীন যারা সৈকতে কাজ করেন, তারা ঝুঁকি তৈরি করেন। তাই সবার পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।”

অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি কোনও ভুল করেননি। তার ভাষায়, “ছবির কাজ শেষ না হওয়ায় ফোন করেছি, কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়।” তবে পুলিশের কাছে তার ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

এ অভিযানের অংশ হিসেবে পর্যটন পুলিশ ইতোমধ্যে দশটির মতো ক্যামেরা জব্দ করেছে এবং সৈকতে অনিবন্ধিত আলোকচিত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তারা জানায়, ক্যামেরা বা নিবন্ধনের কাগজপত্র অন্যের নামে হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কাগজপত্র দেখাতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দোকান স্থাপন, অনুমতি ছাড়া সেবা প্রদান কিংবা যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর নজরদারি চলছে। এডিআইজি মাহমুদ জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

ঘটনাটি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। পাশাপাশি পরিষেবা প্রদানকারীদের নিবন্ধন এবং পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়েও কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হচ্ছে।

এই গ্রেপ্তার শুধুই একটি মামলার সমাধান নয়—এটি কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার বড় একটি পদক্ষেপ। পর্যটন পুলিশের আশা, এই অভিযান সৈকতে সেবাদাতাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং পর্যটকদের স্বস্তি ও আস্থা আরও বাড়াবে।

প্রতিবেদক : নাদিয়া আক্তার

Read Previous

উত্তরাঞ্চলে পরিযায়ী পাখির ঢল: জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও ইকোট্যুরিজমে নতুন সম্ভাবনা

Read Next

সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে নতুন খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ, জনমতের জন্য আহ্বান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular