
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: কক্সবাজারের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘দরিয়ানগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক’এর প্রাণের মতো পুরনো ৪০০ বছরের ‘শাহেনশাহ গুহা’ এখন নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এক সময় যেখানে দিনে হাজারো পর্যটক ভিড় জমান, আজ সেখানে এসে দেখা মেলে হতাশাজনক পরিবেশের। অযত্ন-অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে প্রাকৃতিক এই গুহাটি ধ্বংসের পথে।
দরিয়ানগর সমুদ্রসৈকতের পূর্ব পাশে পাঁচটি পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে থাকা এই পর্যটনপল্লির মূল আকর্ষণ ছিল ৭০০ ফুট দীর্ঘ প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ ‘শাহেনশাহ গুহা’। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত প্রতিদিন হাজারের অধিক দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসলেও বর্তমানে গুহায় প্রবেশ করেন শুধু হাতে গোনা কয়েকজন। পর্যটকদের অভিযোগ, গুহার মুখে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা, ভেঙে পড়া গাছপালা এবং রাস্তায় কাদা, যা ভ্রমণকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর করে তুলেছে। গুহার ভিতরে প্রায়ই হয়রানির শিকার হন পর্যটকরা, নিরাপত্তার কোনো ব্যাবস্থা নেই।

স্থানীয় ও ঢাকার পর্যটকেরা জানান, পাহাড়ের বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যার ফলে ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে এবং গুহার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গুহার পথে ইটপাথরের একটি বিশাল হাঙর ভাস্কর্য থাকলেও তা ছাড়া অন্যান্য অবকাঠামো যেমন পাকা সিঁড়ি, বসার চৌকি ও বিশ্রামাগার দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ও ব্যবহৃত হয় না। পাহাড়চূড়ায় থেকে উপভোগ করা যেত সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, কিন্তু এখন তা জঙ্গলবেষ্টিত হয়ে গেছে।
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী কামরুল হাসান জানান, এক সময় এই গুহা ছিল কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বর্তমানে সে পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে।
গুহার ও আশপাশের সুরক্ষা ও সংস্কারের দায়িত্বে থাকা কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বরাদ্দ না থাকার কারণে সুড়ঙ্গের মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। ইজারাদারগণ গুহার ময়লা পরিষ্কার এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ইজারার মেয়াদ শেষ হলে (আগামী ফেব্রুয়ারি) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পর্যটক এবং স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক এই গুহাটি সংরক্ষণে এগিয়ে আসা যায় এবং পর্যটন আকর্ষণ ফিরিয়ে আনা যায়।



