ইরান-মার্কিন আলোচনায় নতুন সম্ভাবনা, পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে এবার কিছুটা নমনীয় অবস্থানে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দেওয়ার একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই প্রস্তাবের আওতায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করেও জ্বালানি উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে, এর বিপরীতে ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত বা পরিত্যাগ করতে হবে—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

সূত্র জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে কয়েক দফা গোপন বৈঠক হয়েছে। আলোচনা হয়েছে একটি ‘ব্যাক-রিড’ শান্তিচুক্তি নিয়েও, যার মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

এই প্রস্তাবে আরও উল্লেখযোগ্য যে, ইরানের বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে, যার ফলে দেশটি অর্থনৈতিক দিক থেকেও খানিকটা স্বস্তি পেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী, তবে প্রতিটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যদি বাস্তবায়ন হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি হতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

Read Previous

বিদেশে বসেই ষড়যন্ত্র! মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লো বাংলাদেশি আইএস সন্দেহভাজন ‘সেল’, সরকারের হুঁশিয়ারি

Read Next

কাস্পিয়ান সাগরের টানাপোড়েন: বিলুপ্তির পথে বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত হ্রদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular