
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইউরোপের অন্যতম বড় নদী দানিয়ুবের কোলঘেঁষে, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যবর্তী জঙ্গলপথে লুকিয়ে রয়েছে এক বিস্ময়কর ভূখণ্ড—নাম ফ্রি রিপাবলিক অব ভারদিস। পর্যটনের মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চাওয়া এই “ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি” নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহের ঝড় উঠেছে।
মাত্র ২০ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ড্যানিয়েল জ্যাকসন নিজেকে এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। ছোটবেলার কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে ২০১৯ সালের ৩০ মে ভারদিসের ‘স্বাধীনতা’ ঘোষণা করেন তিনি। বর্তমানে তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে একটি মন্ত্রিসভা, তৈরি হয়েছে নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা ও এমনকি পাসপোর্টও!
পকেট থ্রি থেকে ভারদিস
ভারদিসের আয়তন মাত্র ০.৫ বর্গকিলোমিটার। এটি মূলত ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মাঝে ‘পকেট থ্রি’ নামে পরিচিত একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল, যাকে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দাবি করে না। এই বিশেষ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে এই অনন্য রোমাঞ্চকর মাইক্রোনেশন।
পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় কি?
যদিও ভারদিস এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়, তবে এটি হয়ে উঠছে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক চরম কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
এই অঞ্চলে পৌঁছানো যায় শুধুমাত্র ক্রোয়েশিয়ার ওসিজেক এলাকা থেকে নৌপথে, যার অভিজ্ঞতা নিজেই এক অ্যাডভেঞ্চার! রাষ্ট্রটির সরকারি ভাষা ইংরেজি, ক্রোয়েশিয়ান ও সার্বিয়ান; মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হয় ইউরো।
পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ভারদিস কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে দক্ষ পেশাজীবীদের নাগরিকত্ব প্রদান করে, যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। নাগরিকত্ব পেলে মিলছে ভারদিসের নিজস্ব ডিজাইন করা পাসপোর্টও—যদিও সেটি ভ্রমণের ক্ষেত্রে না ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আইনগত জটিলতা ও ভবিষ্যতের আশা
২০২৩ সালে ক্রোয়েশিয়ান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন জ্যাকসন, যখন তিনি ভারদিসে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এরপর থেকেই তাকে আজীবনের জন্য ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিনি নিজেকে ‘নির্বাসিত সরকারপ্রধান’ দাবি করছেন এবং সার্বিয়ার বেলগ্রেদে থেকে ভারদিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তার ভাষায়, “আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখি। আশা করি একদিন পর্যটকরা অনায়াসে ভারদিসে প্রবেশ করতে পারবেন।”
এক ঝলকে ‘ভারদিস’
- 📍 অবস্থান: দানিয়ুব নদীর তীরে, ক্রোয়েশিয়া-সার্বিয়া সীমান্তে
- 🗺️ আয়তন: ০.৫ বর্গকিমি
- 🏳️ ঘোষিত স্বাধীনতা: ৩০ মে ২০১৯
- 👨💼 প্রেসিডেন্ট: ড্যানিয়েল জ্যাকসন
- 💬 ভাষা: ইংরেজি, ক্রোয়েশিয়ান, সার্বিয়ান
- 💶 মুদ্রা: ইউরো
- 👥 নাগরিক সংখ্যা: প্রায় ৪০০
- 🛥️ যাতায়াত: শুধুমাত্র নৌপথে (ক্রোয়েশিয়ার ওসিজেক অঞ্চল থেকে)
যদিও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে ভারদিস এখনো ভ্রমণপিপাসু ও স্বাধীনতা কল্পনাকারীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য হয়ে উঠছে। আগামীতে যদি এটি কোনো পর্যটন উদ্যোগে রূপ নেয়, তবে নিঃসন্দেহে এটি হবে ইউরোপের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও রহস্যঘেরা ভ্রমণস্থান।



