
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দেশের বেসরকারি বিমান খাতে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে নভোএয়ার। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় বিমান লিজ পাওয়া গেলে শিগগিরই আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালু করার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, শারজাহ, মাস্কাট ও দুবাই—এই ছয়টি গন্তব্যকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বহর সম্প্রসারণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্যেই আগামী ১৫ ও ১৬ জানুয়ারির দিকে একটি প্রতিনিধি দল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফর করবে, যেখানে আন্তর্জাতিক লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে বৈশ্বিক বাজারে লিজযোগ্য বিমানের সংকট নভোএয়ারের পরিকল্পনাকে কিছুটা ধীর করেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
নভোএয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করতে একাধিক বিমান লিজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি ACMI মডেলের আওতায় ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমাসহ বিমান ভাড়া নেওয়ার বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শুরুতে এয়ারবাস এ৩২১ যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবতার কারণে সেটি সংশোধন করে এয়ারবাস এ৩২০ বিমানের দিকে ঝুঁকেছে সংস্থাটি।
এক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ। ১৫ বছরের বেশি পুরোনো বিমান লিজ দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা থাকায় বাজারে কার্যকর বিকল্প কমে গেছে। ফলে উপযুক্ত ও অনুমোদনযোগ্য বিমান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানান মফিজুর রহমান।
বিনিয়োগের দিক থেকেও নভোএয়ারের পরিকল্পনা বড়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিমান ক্রয়ে প্রায় ৪৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা এবং অবকাঠামো ও সহায়ক সরঞ্জামে প্রায় ৯ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক বছরে আরও ২৪ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা থেকে ২৯ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে নভোএয়ার। গত ১৩ বছরে সংস্থাটি ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং আট মিলিয়নেরও বেশি যাত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে।
১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ও ঘোষণা করেছে এয়ারলাইন্সটি। এক মাসের জন্য সব রুটে ১৪ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাওয়া যাবে। নভোএয়ারের সেলস সেন্টার, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রোমো কোড VQANNI14 ব্যবহার করে এই অফার নেওয়া যাবে।
দেশের বিমান খাতে বেশ কিছু ‘প্রথম’ উদ্যোগেরও উদ্যোক্তা নভোএয়ার। ‘স্মাইলস’ ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম, কো-ব্র্যান্ডেড কার্ড, টিকিট কেনার জন্য নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব চেক-ইন সুবিধা চালু করা সংস্থাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুরে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে নভোএয়ার।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মফিজুর রহমান বলেন, সময়ানুবর্তিতা ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করাই তাদের মূল অঙ্গীকার। দেশীয় রুটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গন্তব্য সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতেই নভোএয়ারের পরবর্তী যাত্রা



