
ভারী বর্ষণের ফলে সাগর কন্যা কুয়াকাটায় হোটেল মোটেল গুলোতে বন্দী হয়ে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। গত দু-দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টির পর বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় অবিরাম ভারী বর্ষণ। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা অস্বাভাবিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে এবং স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টির কারণে অনেক হোটেলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে খাবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহে। এছাড়া তাদের ট্যুর পরিকল্পনাও অলস হয়ে পরেছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে যাওয়া এক পর্যটক আনিকা তাবাসসুম পর্যটন সংনাদকে বলেন, কিছু দিন ধরেই অধিক কাজের চাপে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরি তাই স্বামীর সাথে এখানে ঘুরতে চলে আসি কিছুটা মানুষিক শান্তির জন্য কিন্তু আসার পর থেকেই আবহাওয়ার এই বাজে অবস্থা,এখন মনে হচ্ছে ঢাকায় থাকলেই ভালো হতো।

নরসিংদী থেকে আসা একপর্যটক বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে কুয়াকাটায় এসেছিলাম। কিন্তু পুরো সময়টাই হোটেলে কাটাতে হচ্ছে। বন্ধুদের সঙ্গে হলে হয়তো বৃষ্টিতে ভিজেও ঘোরা যেত কিন্তু পরিবার নিয়ে তা সম্ভব নয়। তাই খারাপ লাগছে।
হোটেল গ্রেভার ইন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ঈদের আগ মুহূর্তে তেমন পর্যটকের ভিড় না থাকলেও যারা রয়েছেন, তারা প্রায় সবাই হোটেলে অবস্থান করছেন। সন্ধ্যার পর থেকে টানা ভারি বর্ষণের কারণে কেউই বাইরে যেতে পারছেন না।
কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের সভাপতি কাওছার হোসেন ক্বারি বলেন, বর্তমানে এমনিতেই কুয়াকাটায় পর্যটক অনেক কম। তার ওপর ভারি বৃষ্টির কারণে যারা এসেছেন, তারাও বাজারে আসছেন না। আজ কোনো বিক্রি হয়নি।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা কম। তবে যারা রয়েছেন, তারা অধিকাংশই হোটেলে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমাদের টহল অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



