১৯/০৪/২০২৬
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সার্ভার আপগ্রেশনের কাজ চলছে। এতে বন্ধ আছে সব ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি। তবে গ্রাহকের কাছে কোন তথ্য না থাকায় সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংকে ভিড় করছেন গ্রাহক। প্রায় পাঁচ দিন ধরে তারা ঘুরছেন, পাচ্ছেন না কোন তথ্য। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের। 

তবে অধিদপ্তর বলছে, সার্ভার আপগ্রেশনের কাজ চলমান থাকায় সাময়িক বন্ধ রয়েছে বিক্রি। মন্ত্রনালয় থেকে কাজ হচ্ছে, যে কোন সময় সার্ভার চালু হবে। আগের মতোই কিনতে পারবেন গ্রাহক।

এদিক বিগত চার দিনের মতো মঙ্গলবারও (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে দেখা যায়, নারী-পুরুষসহ মিলে একাধিক গ্রাহককে। তাদের সবাই এসেছেন সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য, কেউ এসেছেন ভাঙানোর জন্য। আবার কেউ এসেছেন তথ্য (কবে ঠিক হবে সার্ভার) জানার জন্য। তাদের অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করছেন। কারন হেল্পডেস্ক থেকে ফর্ম পূরণে সহায়তা করা হলেও সার্ভার চালুর বিষয়ে কোন তথ্য নেই কর্মকর্তাদের মাঝে।

গ্রাহকরা বলছেন, সঞ্চয় অধিদপ্তর সার্ভঅর চালু করলে আমরা ফরম জমা নিতে পারবো।

বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল অফিসের এক অতিরিক্ত পরিচালক জানান, ‘গত বুধবার থেকে সার্ভার ডাউন আছে। কবে ঠিক হবে, আমরা এ বিষয়ে কোন কিছু জানি না। সার্ভার ঠিক হলে সবাই সেবা পাবেন। তবে সার্ভার ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ফর্ম নিতে পারছেন, জমা হচ্ছে না। কেউ চাইলে কাউন্টারে রেখে দিতে পারেন, সার্ভার ঠিক হলে আমরা জমা করে নিবো। সার্ভার ঠিক হওয়া অধিদপ্তরের কাজ।’

সজিব আহমেদ এসেছেন পুরান ঢাকা থেকে। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, এখন জমা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার এসেছিলাম কিন্তু জমা দিতে পারিনি। আজ আবার এসেছি, কিন্তু জমা নিচ্ছে না। অফিস থেকে বলা হচ্ছে কাউন্টারে রেখে দিতে পারেন। কিন্তু কার কাছে রাখবো, এখানেতো চেক আছে, আবার কোন টোকেনও দেওয়া হবে না। আবার কবে সার্ভার ঠিক হবে সেটাও জানাতে পারছেন না। এভাবে সিময় অপচয়ের মানে হয় না।’

ইকরামুল ইসলাম নামে একজন গ্রাহক বলেন, ‘আমি আগে থেকে কোন বার্তা পাইনি। এর আগেও আমার সঞ্চয়পত্র কেনা রয়েছে। নতুন করে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছি কিন্তু জমার দেওয়ার জন্য দুই দিন ধরে ঘুরছি। কোন তথ্যও পাচ্ছি না কবে নাগাদা সার্ভার ঠিক হবে। ব্যাংকের গ্রাহককে মোবাইলে এসএমএস করে জানিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু অধিদপ্তর আমাদের জানায় নাই। এ কারনে গতকালের মতো আজও ঘুরছি।’

রাবেয়া সুলতানা এসেছেন ফর্ম নিতে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে ও ছেলের বউ এর নামে কিছু সঞ্চয়পত্র কিনবো। গত বৃহস্পতিবার এসেছিলাম বলেছিল সার্ভার ডাউন, আস এলাম বলে সার্ভার ডাউন। কবে সার্ভার ঠিক হবে এটা জানাতে পারছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা, আমরাও আশা নিয়ে আসছি সার্ভার ঠিক হবে বলে।’

এ বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও জনসংযোগ) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সার্ভারের পুরো কাজটা অর্থমন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগের একটা প্রজেক্ট। এটা অর্থ বিভাগের ওই প্রজেক্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেখান থেকে কাজ চলছে।’

এদিকে চলতি মাস থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিমের ধরন অনুযায়ী) মুনাফার হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগ গতকাল বুধবার বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) অনুরোধ করেছে। অর্থ বিভাগের তৈরি এ বিষয়ে প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সুপারিশটি এসেছে অর্থসচিবের নেতৃত্বাধীন নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিডিএমসি)। যাকে সহায়তা করেছে অর্থ বিভাগের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ।

মুনাফার এ হার ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ বর্ধিত হারের কারনে কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা (১২.২৫ শতাংশ) পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা (১২.৫৫ শতাংশ) পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে। সুদহার পরিবর্তনের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে পাঠানো চিঠিতে। বর্তমানে ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি, এই তিন ধাপ রয়েছে। প্রতিটি ধাপে আলাদা মুনাফার হার রয়েছে। তবে নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আর অপর ধাপে ধাপে এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা থাকবেন।

Read Previous

ফের সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন

Read Next

সুন্দরবন ভ্রমণে নতুন প্যাকেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular