
নিজস্ব প্রতিবেদক, পর্যটন সংবাদ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি কসমেটিকস ও মিল্ক পাউডারসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ ফ্লাইটের এক ফ্লাইট স্টিউয়ার্ডেসকে আটক করেছে সিকিউরিটি বিভাগ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ফ্লাইটটি অবতরণের পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রুটিন তল্লাশির অংশ হিসেবে ক্রুদের ব্যক্তিগত মালপত্র যাচাই করছিলেন। এ সময় স্টাফ ব্যাগেজ থেকে সন্দেহজনকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি কসমেটিকস ও মিল্ক পাউডার পাওয়া যায়, যা দেশের কাস্টমস আইন অনুযায়ী শুল্ক আরোপযোগ্য।

ঘটনার পর ফ্লাইট স্টিউয়ার্ডেস আন্নামা দাবি করেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল। তবে বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আন্নামা ঢাকার মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার স্ত্রী। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নই। আমাদের দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তা তল্লাশি। মুচলেকা নিয়ে আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি।”
তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্রুদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আমদানির অভিযোগ। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান ও বনানীর কিছু দোকানে এইসব পণ্য বাজারজাত করা হয় বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং দেশের কাস্টমস আইন ও শুল্ক ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



