১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাধানগর: চা-বাগানের শহর শ্রীমঙ্গলের নতুন পর্যটন রাজধানী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ : একসময় নিস্তব্ধ কৃষিনির্ভর গ্রাম ছিল শ্রীমঙ্গলের রাধানগর। এখন সেটিই পরিচিত দেশের অন্যতম ব্যস্ত ‘ট্যুরিস্ট ভিলেজ’ হিসেবে। চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই অঞ্চল এখন পর্যটনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা বলেন, গত দুই দশকে পর্যটন শুধু রাধানগরের চেহারাই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে এলাকার অর্থনীতি ও জীবনধারা।

কৃষিগ্রাম থেকে পর্যটন নগরী

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে লাউয়াছড়া বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিদেশি ও দেশি ভ্রমণকারীদের আনাগোনা বাড়ে। তাদের থাকার সুবিধার জন্য ২০০০ সালের দিকে রাধানগরে গড়ে ওঠে দেশের প্রথম দিককার ইকো কটেজ ‘নিসর্গ ইকো কটেজ’। সেই সূত্রে শুরু হয় রাধানগরের পর্যটন যুগ। আজ সেখানে রয়েছে অর্ধশতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও গেস্টহাউস—যেগুলোর বেশিরভাগই পরিবেশবান্ধব নকশায় তৈরি।

হোটেল-রিসোর্টের স্বপ্নরাজ্য

রাধানগরে এখন একের পর এক বিলাসবহুল রিসোর্ট—বালিশিরা রিসোর্ট, মাধবীল ইকো কটেজ, অরণ্যের দিনরাত্রি, শান্তিবাড়ি, লিচিবাড়ি, নিসর্গ নিরব কটেজ, ওয়ান্ডার হিল, হার্মিটেজ, জলধারা, বৃষ্টি বিলাস—সবগুলোই তাদের নিজস্ব স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। অনেক জায়গায় বাঁশ, কাঠ ও প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা গ্রামটিকে করেছে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের রোল মডেল।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন

রাধানগরে এখন কয়েকশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পর্যটন শিল্পে যুক্ত। কেউ রিসোর্ট পরিচালনা করছেন, কেউ গাইড বা রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। কেউবা হস্তশিল্প, চা কিংবা মনিপুরি পণ্যের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তা তাপস দাশ বলেন, “বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত শত শত পর্যটক আসে। এতে আমাদের ব্যবসা যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারও পাচ্ছে রাজস্ব।”

উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের উদ্যোগ

শান্তিবাড়ি ইকো রিসোর্টের পরিচালক তানভীর লিংকন জানান, “২০১২ সালে যখন আমরা ইকো রিসোর্ট শুরু করি, তখন এমন জনপ্রিয়তা কল্পনাও করিনি। এখন দেশি-বিদেশি ভ্রমণকারীরা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে রাধানগরেই থাকতে চান।”
রাধানগর পর্যটন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তারেকুর রহমান পাপ্পু বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই এখানে টেকসই পর্যটনের বিকাশ ঘটছে। সরকারের আরও সহযোগিতা পেলে এই এলাকা হতে পারে জাতীয় পর্যটনের প্রধান গন্তব্য।”

প্রশাসনের নজর

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম এমপি বলেন, “রাধানগরে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। রাস্তার আলো, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই শ্রীমঙ্গল হোক দেশের পরিবেশবান্ধব পর্যটনের কেন্দ্র।”

রাধানগর এখন শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি এক সফল উদাহরণ—কীভাবে টেকসই ও পরিকল্পিত পর্যটন একটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজকে বদলে দিতে পারে। চা-বাগানের শহর শ্রীমঙ্গল তাই আজ গর্ব করে বলতে পারে—বাংলাদেশের সবুজ হৃদয় এখন রাধানগরে স্পন্দিত।

Read Previous

রাঙামাটিতে নবনির্বাচিত প্রেস ক্লাব কমিটিকে সংবর্ধনা

Read Next

উমহলাঙ্গা রকস — ডারবানের উপকূলে শান্ত সমুদ্র আর বিলাসী সৌন্দর্যের ঠিকানা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular