
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এসব ঘটনার পেছনে নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা জানান, বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো ছিল। হঠাৎ আগুন দেখা দিলে মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমাদের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।”
ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল কাইয়ুম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি—আগুনটি দুর্ঘটনাবশত নাকি পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, একই সন্ধ্যায় মিরপুর-১০ নম্বরে শাহ আলী মার্কেটের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা রাস্তার পাশে ফাঁকা জায়গায় ককটেল ফাটায়। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা বের করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”
এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর চারটি এলাকায়—মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে—মোট সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কোথাও প্রাণহানি না হলেও এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
সকালে শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস এবং কিছুক্ষণ পর মেরুল বাড্ডায় আকাশ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। দুটো বাসই তখন খালি ছিল বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। দ্রুত পদক্ষেপে আগুন বড় আকার ধারণ করতে পারেনি।
নগরজুড়ে এমন ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন, “বিকেলে বের হওয়া মানেই ভয়।” যাত্রীবাহী বাসচালক ও পরিবহন শ্রমিকরাও দুশ্চিন্তায় আছেন। এক বাসচালক বলেন, “এই কয়েকদিনে এমন ঘটনা বেড়ে গেছে। যাত্রীরা ভয়ে বাসে উঠতে চায় না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাজধানীর এমন অস্থির পরিস্থিতিতে নাগরিকদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা কমাতে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি উঠেছে। মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন করছে—এই আগুন আর বিস্ফোরণের পেছনে আসলে কারা?



