রয়টার্সের সাংবাদিক হুসাম আল-মাসরি নিহত: গাজায় দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলি হামলার শিকার

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন রয়টার্সের অভিজ্ঞ সাংবাদিক হুসাম আল-মাসরি (৪৯)। সোমবার (২৫ আগস্ট) নাসের হাসপাতালে লাইভ সম্প্রচার চালানোর সময় তিনি হামলার শিকার হন।

সহকর্মীদের ভাষায়, হুসাম সবসময় ইতিবাচক ছিলেন এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও আশা দেখাতে চাইতেন। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক আলেসান্দ্রা গালোনি তাকে স্মরণ করে বলেছেন, গাজার গল্প বিশ্বকে জানানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন নিবেদিত, সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

হাসপাতালের সিঁড়ির পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও ছিলেন। রয়টার্সের ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে হুসামের পরিবারও ছিল গভীর সংকটে। ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী সামাহার চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে চার সন্তান—শাহদ (২৩), মোহাম্মদ (২২), শাথা (১৮) ও আহমদের (১৫) জীবনে।

১৯৭৪ সালে খান ইউনিসে জন্ম নেওয়া হুসাম ১৯৯৮ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন। গত বছরের মে মাসে রয়টার্সে যোগ দিয়ে তিনি নাসের হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বকে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের ছবি দেখাতেন। সর্বশেষ প্রতিবেদনে তিনি তুলে ধরেছিলেন ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশু ও সাধারণ মানুষের লাশ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি।

হুসামের ভাই এজেলদিন বলেছেন, ক্যামেরা সবসময় সত্য তুলে ধরে—হুসাম সেই সত্যই বিশ্বকে দেখাতেন।

সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত গাজায় ১৮৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের দায়ভার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

Read Previous

রাজধানীর সব বাস একক ব্যবস্থায় চলবে: প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

Read Next

ট্রাম্প–কিম বৈঠকের আগ্রহ, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ঘোষণা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular