পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি প্রক্রিয়া, পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যু এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গ গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট লি সরাসরি অনুরোধ করেন, দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্প যেন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেন। লি বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উপদ্বীপে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল এবং তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাস্তব সাফল্য দেখাতে পেরেছেন।
শান্তি ইস্যুর পাশাপাশি এই সফরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চুক্তি ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। কোরিয়ান এয়ার জানিয়েছে, তারা বোয়িং থেকে ১০৩টি নতুন বিমান কিনবে, যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে জিই এয়ারোস্পেস ও সিএফএম ইন্টারন্যাশনালের ইঞ্জিন ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি। এর মোট মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া হুন্দাই মোটর গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার করবে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস সফরটি দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের জন্য ছিল একটি বড় পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের চাপের মধ্যেও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই সফরের ফলাফল শুধু দুই দেশের অর্থনীতিতেই নয়, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।



