মালে–ঢাকা সরাসরি ফ্লাইটে নতুন সম্ভাবনা, বাংলাদেশ–মালদ্বীপ পর্যটনে গতি ফিরছে

মালদ্বীপ এয়ার

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদ্বীপ এয়ারলাইনস আগামী ১২ মার্চ থেকে মালে ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন যোগাযোগ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সরাসরি আকাশপথ চালু হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালদ্বীপ ভ্রমণ যেমন সহজ হবে, তেমনি মালদ্বীপের নাগরিকদের কাছেও ঢাকা একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ ও ট্রানজিট গন্তব্য হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন, রবিবার ও বৃহস্পতিবার, এই রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। রাউন্ড-ট্রিপ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯৯ মার্কিন ডলার থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার ৮৮০ টাকা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ভাড়া মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহনীয় এবং এটি স্বল্পমেয়াদি অবকাশ যাপন ও হানিমুন পর্যটনের চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হবে।
ফ্লাইটের সময়সূচী পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে। ঢাকায় ভোরে অবতরণের ফলে যাত্রীরা সহজেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য অথবা অন্য আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগকারী ফ্লাইট ধরতে পারবেন। একইভাবে ঢাকাকে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে মালদ্বীপের পর্যটকরাও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বপ্নের গন্তব্য। নীল জলরাশি, প্রবাল দ্বীপ, বিলাসবহুল রিসোর্ট, জলক্রীড়া ও নিরিবিলি অবকাশ যাপনের সুযোগ মালদ্বীপকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় ভ্রমণের সময় ও ঝামেলা কমবে, ফলে পরিবার, দম্পতি ও তরুণ পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মালদ্বীপের পর্যটকদের কাছেও ঢাকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তব্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, খাবারের বৈচিত্র্য এবং স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও কেনাকাটার সুযোগ ঢাকাকে একটি জনপ্রিয় শহরভিত্তিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, সুন্দরবন ও সিলেটের মতো পর্যটন এলাকা মালদ্বীপের পর্যটকদের কাছেও নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পর্যটকদের জন্য ঘোষিত সুবিধাগুলোও এই রুটকে আকর্ষণীয় করে তুলছে। প্রতিটি যাত্রী ৩০ কেজি পর্যন্ত চেকড লাগেজ নিতে পারবেন, যা দীর্ঘ ছুটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য কার্যকর। ফ্লাইটে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এসব সুবিধা আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইতোমধ্যে মালদ্বীপ এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং ১৬৭১ নম্বর কল সেন্টারের মাধ্যমে টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে। রুটটি পুনরায় চালুর উপলক্ষে বিমান সংস্থাটি একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। “ঢাকা, আমরা তোমার কথা শুনেছি” শিরোনামে আয়োজিত এই সঙ্গীত উৎসব মূলত মালদ্বীপে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য হলেও, এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বার্তাও বহন করছে।
বর্তমানে মালদ্বীপ এয়ারলাইনস ২৬টি বিমানের বহর নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আধুনিক বহরের মাধ্যমে তারা পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, মালে–ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভ্রমণ সময় কমে আসায় মালদ্বীপ বাংলাদেশের জন্য আরও সহজলভ্য গন্তব্যে পরিণত হবে, আবার বাংলাদেশও মালদ্বীপের পর্যটকদের কাছে নতুন ভ্রমণ বিকল্প হিসেবে পরিচিতি পাবে। ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Read Previous

তিন শতকের আগুনে গড়া এক কিংবদন্তি: মাদ্রিদের ‘সবরিনো দে বোতিন’ ও সময়কে অতিক্রম করা স্প্যানিশ স্বাদ

Read Next

সুন্দরবনের ঢাংমারীতে রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটক অপহরণ, আতঙ্কে পর্যটন খাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular