১৯/০৪/২০২৬
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়িংকেই বেছে নিল বিমান, বহরে আসছে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ

বিমানে বোয়িং

বিমানে বোয়িং

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বোয়িং নাকি এয়ারবাস—এই দ্বিধার অবসান ঘটিয়ে নতুন বহর গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন এয়ারক্রাফট কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ। এই সিদ্ধান্তকে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ক্রয় সিদ্ধান্তের পেছনে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে কারিগরি সক্ষমতা, রুট চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা যাচাই করে বোয়িংকেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (পাবলিক রিলেশন্স) বোসরা ইসলাম জানান, সর্বশেষ বোর্ড বৈঠকে নীতিগতভাবে বোয়িং থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগেই গত ২৪ নভেম্বর বোয়িং কর্তৃপক্ষ বিমান বিক্রি ও ডেলিভারি সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠায়।

বোয়িং থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে আধুনিক ও জ্বালানি সাশ্রয়ী মডেল। এর মধ্যে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিমান যুক্ত হলে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায়ও সুবিধা হবে।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বৈঠকে বলেন, দেশের বিমান চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় রেখেই নতুন বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বহর যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে বোয়িংয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস বিমানকে তাদের পণ্য বিক্রির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত এই প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি।

বিমান সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু করবে বোয়িং, যা বিমানের বহর আধুনিকায়নের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

Read Previous

ইসলামী ব্যাংকিং খাতে নতুন দিগন্ত: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা ও তারল্য ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তন

Read Next

টানা পঞ্চম বছর লাভে বিমান, নিট মুনাফায় রেকর্ড উল্লম্ফন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular