
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম উপজেলার পালংখিয়াং জলপ্রপাতে বেড়াতে গিয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন ১১ জনের একটি পর্যটক দল। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি খাল ও জলপ্রপাতের প্রবল স্রোতে আটকা পড়ে তারা জুমঘরে কাটান তিন দিন। এ সময় সঙ্গে নেওয়া সামান্য খাবারও শেষ হয়ে যায়, শুরু হয় বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

২৫ জুলাই আলীকদমের হাজিরাম পাড়া থেকে তৈনখালের পাড় ধরে তারা পালংখিয়াং জলপ্রপাতে পৌঁছান। সেদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। জলপ্রপাত উপভোগ করার কিছু সময় পর হঠাৎ পানি ঘোলা হয়ে গতি বেড়ে যায়। অল্প সময়েই স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে, ফলে দ্রুত নিরাপদে উপরে উঠতে বাধ্য হন তারা। গাইড সতর্ক করে জানান, বৃষ্টি না কমলে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
পরদিন সকালে বৃষ্টি কিছুটা থামলেও শিগগিরই আবার শুরু হয়। তৈনখাল ভয়ংকর রূপ নেয়, জলপ্রপাতও যেন হুংকার ছুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে তাদের সামনে। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছিল না। সঙ্গে থাকা চাল শেষ হয়ে গেলে তারা শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে সময় কাটাতে থাকেন।

সন্ধ্যায় উল্টো দিক থেকে আসা আরও একটি দল এসে যোগ দেয়। দুই দলের মজুত খাবার মিশিয়ে খিচুড়ি রান্না হলেও তা এক রাতেই শেষ হয়। ২৮ জুলাই সকালে চা-বিস্কুট খেয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ায় দুই দলের গাইড ঝুঁকি নিয়ে চাল সংগ্রহে বের হন। ঘণ্টা পাঁচেক পরে ফিরে আসেন মাত্র পাঁচ কেজি চাল নিয়ে। সামান্য চাল ও একটি কাঁচা পেঁপে দিয়ে দুপুরের খাবার সারেন তারা।
সেদিন বিকেলের দিকে পানি কমে এলে সবাই দড়ি ধরে একে অপরকে সাহায্য করে খাল পার হন এবং পাহাড়ি পথে যাত্রা শুরু করেন। রাতের অন্ধকারে দুই ঘণ্টা হাঁটার পর তারা পৌঁছান স্থানীয় একটি গ্রামে। সেখানে রাত কাটিয়ে পরদিন বিকেলের মধ্যে আলীকদমে ফেরেন।
দলটির এক সদস্য মিঠুন আচার্য জানান, “এটি শুধু একটি ভ্রমণ ছিল না, বরং প্রকৃতির সৌন্দর্য আর ভয়ংকর শক্তির একসঙ্গে সাক্ষী হওয়ার অভিজ্ঞতা—যা সারা জীবন মনে থাকবে।”



