
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট চালু হয়েছে। আর এই নতুন ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৪ জন প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য বলছে, সকাল ১০টা পর্যন্ত “পোস্টাল ভোট বিডি” অ্যাপ থেকে পাওয়া সর্বশেষ ডেটাতেই সংখ্যাটা অবাক করার মতো দ্রুত বেড়েছে।
পুরুষ ও নারী ভোটারের অংশগ্রহণ
নিবন্ধনকারীদের মধ্যে
– ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৩ জন পুরুষ
– ১৮ হাজার ৯৫১ জন নারী
সংখ্যাটা শুধু বড়ই নয়, ইসির প্রত্যাশাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রথমবারের উদ্যোগ হওয়ায় কতজন নিবন্ধন করবেন—এ নিয়ে শুরুতে কোনো স্পষ্ট অনুমান ছিল না। কিন্তু প্রবাহ দেখে বোঝা যাচ্ছে, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের ভোটে অংশ নেওয়ার আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
কীভাবে হবে পোস্টাল ব্যালটে ভোট
পুরো প্রক্রিয়াটা এবার আর আগের মতো জটিল নয়। নিবন্ধন সম্পন্ন হলেই প্রবাসীর ঠিকানায় ডাকযোগে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার। ভোটার ব্যালট পূরণ করে ফিরতি খামে পাঠিয়ে দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।
এটুকুই। কোনও দূতাবাসে যাওয়া বা আলাদা কাগজপত্র সংগ্রহের ঝামেলা নেই।
এই ব্যবস্থায় শুধু প্রবাসীই নয়—আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি এবং ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
নিবন্ধন চলছে যেসব দেশে
নিবন্ধনের পরিধি এখন খুবই বিস্তৃত। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র—সব মিলিয়ে কয়েক ডজন দেশের প্রবাসীরা ইতোমধ্যেই অংশ নিয়েছেন।
এ ছাড়া আফ্রিকার দেশগুলো—ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, উগান্ডা, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, ঘানা, মরক্কোসহ আরও অনেকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে।
এশিয়ার তাইওয়ান, হংকং, মধ্যপ্রাচ্যের মিশর ও লিবিয়া, আবার দক্ষিণ আমেরিকার চিলি, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর—সংশ্লিষ্ট দেশের তালিকা বেশ লম্বা।
নিবন্ধন কবে পর্যন্ত
নিবন্ধন শুরু হয়েছে ১৯ নভেম্বর। চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সময় এখনও আছে, কিন্তু গতি দেখে মনে হচ্ছে শেষ সপ্তাহ এলেই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়বে।
ইসির লক্ষ্য আরও বড়
এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ নিবন্ধন হলেও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা। এ জন্য তারা টেকনিক্যাল আপডেট, দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, এবং বিদেশে তথ্য প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছে।
আগামী নির্বাচন সামনে রেখে
ইসি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ভোট ব্যবস্থার এই অংশটা তাই সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা। তারা চাইছে প্রবাসীরা যেন এবার সত্যিকার অর্থেই ভোটের অংশ বলে অনুভব করেন।



