নারীরা স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন যেসব স্থানে

যেখানে আমাদের দেশে নারীদের রাতে বাইরে ঘুরে বেড়ানোকেই বাঁকা চোখে দেখা হয়, সেখানে নারীদের এক দেশ থেকে আরেক দেশে একাকী ভ্রমণ কল্পনাও করা যেত না কয়েক দশক আগে। কিন্তু দিন বদলেছে।

 নারীদের একক ভ্রমণের প্রবণতা এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও বিদেশ ভ্রমণে বের হলে অনেক নারীকেই সম্মুখীন হতে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির। বিশ্বের সর্বত্র নারীদের ভ্রমণ নিরাপদ হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হল, নারীরা এখনও ভ্রমণে বের হলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন।

 নারীদের জন্য ভ্রমণ উপযোগী নিরাপদ কিছু দেশের সন্ধান দেয়া হলো যেখানে আপনি ঘুরে বেড়াতে পারেন দ্বিধাহীনভাবে!

 জাপান

 গ্লোবাল পিস ইনডেক্স অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০টি নিরাপদ দেশের মাঝে জাপান একটি। ইনডেক্স অনুযায়ী জাপানে অপরাধের হার এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পরিমাণ অনেক কম। ফলে নারী ভ্রমণকারীরা কোনোরকম ভীতি ছাড়াই ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এছাড়াও জাপানে নির্দীষ্ট সময় ও রুটে শুধু নারী যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সাবওয়ে- গাড়ি। একক ভ্রমণের কথা ভেবে তারা নারীদের জন্য একক আবাসনেরও সুযোগ করে দিয়েছে। তবে আপনি যদি জাপানি ভাষা না জেনে থাকেন তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণের সময় অবশ্যই গাইড সঙ্গে রাখতে হবে।

 নরওয়ে

 উইমেন্স পিস এন্ড সিকিউরিটি ইন্ডেক্স অনুযায়ী নারী ভ্রমণকারীদের উপযোগী দেশগুলোর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে নরওয়ে। একক দর্শনার্থী সহ সব প্রকারের ভ্রমণকারীদের জন্য এক নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে নরওয়ে। এ দেশের অধিবাসীরা বিশ্বস্ত এবং বন্ধুসুলভ। আর্কটিক ভ্রমণ, স্লেডিং এবং বরফে মোড়া হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে নরওয়েতে।

 সংযুক্ত আরব আমিরাত

 কমিউনিটি সেফটির কথা বিবেচনা করলে আরব আমিরাত উইমেন্স পিস এন্ড সিকিউরিটি ইন্ডেক্সে থাকা বাকি দেশগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। এমনকী নৈশভ্রমণ উপভোগ করতে দুবাই হতে পারে আপনার জন্য নিরাপদ শহর। আরব আমিরাতে গেলে পাম ড্রপজোনে স্কাইডাইভিং কিংবা মরুভূমির সাফারিও উপভোগ করতে পারবেন।

 রুয়ান্ডা

 ১৯৪৪ সালে গণহত্যার ঘটনাটির জন্য রুয়ান্ডা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশপাশি নারী- পুরুষে সমতা বিধানে দেশটি অনেক এগিয়ে গেছে। তাই গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স অনুযায়ী কমিউনিটি সেফটির দিক দিয়ে রুয়ান্ডার অবস্থান ষষ্ঠ স্থানে। দেশটিতে ইংরেজি ও ফ্রান্স দু’টি ভাষাই চালু আছে তাই ভাষাজনিত বিড়ম্বনাতেও পড়তে হবে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য রয়েছে ‘ভিসা অন এরাইভাল’ সুবিধা।

 স্লোভানিয়া

 উইমেন্স পিস এন্ড সিকিউরিটি ইন্ডেক্স অনুযায়ী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্লোভেনিয়া সূচকের শীর্ষে অবস্থান করছে। দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীদের সুরক্ষার বিষয়ে অগ্রগতি করেছে, সূচক অনুসারে এখানে ৮৫ শাতংশ নারী নিরাপদ বোধ করেন। একাকীত্বের স্বাদ অনুভব করতে চাইলে নারী হাইকাররা আলপাইন পর্বতমালা এবং বিস্তৃত জনপদ বিচরণ করতে পারবেন দেশটিতে।

Read Previous

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

Read Next

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৭৮ প্রাণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular