
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: থাইল্যান্ড ভ্রমণে যারা পাহাড়, কুয়াশা আর ঠান্ডা আবহাওয়া খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হচ্ছে দোই ইনথানন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৫৬৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এ পাহাড়কে বলা হয় “থাইল্যান্ডের ছাদ”। এখানে একদিকে যেমন চমৎকার ভিউপয়েন্ট, ঝরনা আর ট্রেকিং ট্রেইল আছে, অন্যদিকে রয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ক্যাম্পিং গ্রাউন্ড—যেখানে পর্যটকরা প্রকৃতির মাঝে রাত কাটানোর অনন্য অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
ভ্রমণ আকর্ষণ
দোই ইনথানন ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশের পর পর্যটকরা প্রথমেই দেখতে পান নানা ধরণের ফুল ও পাইন বন। শীত মৌসুমে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে এবং সকালে সূর্যোদয়ের দৃশ্য অসাধারণ লাগে। এছাড়া এখানে রয়েছে ওয়াচিরাথান ও সিরিথান নামের দুটি মনোমুগ্ধকর ঝরনা, যা ছবিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে রাজা ভূমিবল আদুল্যাদেজ ও রানি সিরিকিতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মিত দুইটি প্যাগোডা। এখান থেকে মেঘের সমুদ্র আর সবুজ উপত্যকার দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে রাখে।
ক্যাম্পিং সুবিধা
ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে দোই ইনথাননে নির্দিষ্ট ক্যাম্পিং এলাকা রয়েছে। এখানে ভাড়া পাওয়া যায় টেন্ট ও স্লিপিং ব্যাগ। যারা নিজের তাবু নিয়ে আসতে চান, তারাও নির্দিষ্ট স্থানে ক্যাম্প করতে পারেন। রাতের আকাশে তারার মেলা আর ভোরে কুয়াশার চাদর—এই দুটোই ক্যাম্পিংকে করে তোলে স্মরণীয়।
যাওয়ার উপায়
চিয়াং মাই শহর থেকে দোই ইনথাননের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। শহর থেকে বাস, ভ্যান কিংবা বাইক ভাড়া করে সহজেই পৌঁছানো যায়। ভোরে রওনা দিলে সূর্যোদয় উপভোগ করা সম্ভব।
ভ্রমণ পরামর্শ
- ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।
- শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় ৫–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, তাই গরম কাপড় নিতে হবে।
- ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশের জন্য টিকেট লাগে।
- পরিবেশ পরিষ্কার রাখা ও ক্যাম্পিং নিয়ম মেনে চলা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।
দোই ইনথানন শুধু থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ পাহাড় নয়, বরং প্রকৃতি আর অভিযানের একসাথে অভিজ্ঞতা নেওয়ার আদর্শ স্থান। যারা ভ্রমণ আর ক্যাম্পিং দুটোই একসাথে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে প্রথম পছন্দ হতে পারে।



