
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐতিহাসিক নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার সিদ্ধান্তে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দেখা দিয়েছে নতুন গতি। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে, যার মধ্যে অন্যতম পর্যটন খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়কে বাড়তি উৎসাহ দেওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে স্বস্তি এনে দিয়েছে, যা বিদেশি পর্যটকদের জন্য স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
রোববার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে ১২১.৫০ টাকা দরে ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। ফলে সোমবারই ডলারের বাজারে দেখা দেয় ঊর্ধ্বগতি—যেখানে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের ডলারের দাম বাড়িয়ে ১২০.৮০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। এতে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে একটি ‘ইন্ডিকেটিভ রেট’ নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (REER)-এর কাছাকাছি।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুদ্রাবাজারের এই নিয়ন্ত্রিত স্থিতিশীলতা বিদেশি পর্যটকদের আস্থা বাড়াবে। তারা বলছেন, ডলার রেটের হঠাৎ ওঠানামা পর্যটকদের খরচ ও বাজেট পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। কিন্তু রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পরিবর্তনের ফলে এখন একটি সুশৃঙ্খল মুদ্রাবাজার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে কিছুটা বেশি রেটে ডলার কিনে বাজারে একটি ‘সিগন্যাল’ দিয়েছে, যার ফলে বাজারে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, কয়েকদিন বাজার পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”
পর্যটন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাও বলেন, “বর্তমানে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় ভালো আসছে। আর আমদানির চাহিদা তুলনামূলক কম। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ ভালো, যা পর্যটকদের জন্য মুদ্রা বিনিময়ে স্থিতিশীল হার নিশ্চিত করতে সহায়ক।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ডলারের দামে নিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বমুখিতা থাকলে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে খরচের পরিকল্পনা সহজ হবে। বিশেষ করে হোটেল বুকিং, ভ্রমণসেবার অগ্রিম পরিশোধ, গাইড সার্ভিসের বিলসহ নানা বিষয়ে তারা একটি পরিষ্কার মুদ্রা হার পাবে।
সবমিলিয়ে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন কৌশল শুধু অর্থনীতির বৃহত্তর পরিসরে নয়, পর্যটন খাতেও একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—এই স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন প্রবৃদ্ধিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।



