জেজুকে টেকসই পর্যটনের কেন্দ্র বানাতে PATA–JTO নতুন সহযোগিতা চুক্তি

পাতা

ছবি : পাতা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (PATA) এবং জেজু ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (JTO) দায়িত্বশীল পর্যটনকে এগিয়ে নিতে এবং কোরিয়ার জেজু দ্বীপকে ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে যৌথভাবে নতুন একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় পর্যটন শিল্পে এই চুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইতে অনুষ্ঠিত পাটা ডেস্টিনেশন মার্কেটিং ফোরাম ২০২৫–এ, যেখানে হাজির ছিলেন তিনশরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটন বিশেষজ্ঞ। অনুষ্ঠানে PATA–র সিইও নূর আহমেদ হামিদ এবং JTO–র সিইও কোহ সিউং চুল আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই মুহূর্তটিকে জেজুর জন্য “নতুন অধ্যায়” হিসেবে আখ্যা দেন হামিদ, কারণ দ্বীপটি এ বছর PATA সদস্যপদ পাওয়ার ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।

হামিদ বলেন, জেজু দীর্ঘদিন ধরেই টেকসই পর্যটনের ক্ষেত্রে দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে জেজু দু’দুবার পাটা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, দায়িত্বশীল ভ্রমণ এখন শুধু একটি ধারণা নয়, বরং ভবিষ্যতের পর্যটন শিল্পের প্রধান ভিত্তি।

জেজু বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশের অধীনে MICE (Meetings, Incentives, Conferences and Exhibitions) কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এখন JTO–র হাতে। ফলে দ্বীপটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, কর্পোরেট ইভেন্ট এবং বৈশ্বিক সভার প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। চুক্তিটি সেই প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।

JTO–র প্রধান কোহ সিউং চুল বলেন, সমঝোতা স্মারকটি জেজুকে তার প্রচলিত বাজারের বাইরে নিয়ে যাবে এবং এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তার মতে, এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভ্রমণকে জনপ্রিয় করে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো—দায়িত্বশীল পর্যটন, টেকসই উন্নয়ন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সুবিধা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা, অ্যাডভোকেসি, জ্ঞান বিনিময় এবং ভবিষ্যতের ইভেন্ট পরিকল্পনায় যৌথভাবে কাজ করা।

জেজুর মতো একটি প্রকৃতিনির্ভর দ্বীপের জন্য এটি শুধু একটি চুক্তি নয়; বরং তার পর্যটন পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে জেজুর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পর্যটন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও এ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Read Previous

অস্ট্রেলিয়ার নতুন ইউটিউব নিষেধাজ্ঞা ঘিরে তুমুল বিতর্ক: শিশুদের নিরাপত্তা নাকি বাড়তি ঝুঁকি?

Read Next

বাংলাদেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা সংস্কৃতি জোরদারে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির কর্মশালা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular